গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায়

234

বিবাহবার্ষিকীর দিনে হাসিনার তৈরি ট্রাইব্যুনালেই  নিজের ফাঁসির রায় পেলেন শেখ হাসিনা।মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফ্যাসিস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির একটি ঐতিহাসিক রায়।

 

 

নিউজ ২১ ডেস্কঃ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের ৫৮তম বিবাহবার্ষিকীতে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার (১৭ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় দেন।

এ মামলায় পলাতক রয়েছেন শেখ হাসিনা ও কামাল। তবে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় বছরখানেক ধরে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি মামুন। যদিও রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। ফলে সাবেক এই আইজিপির ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই অপরাধে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ফাঁসির রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন শেখ হাসিনা। ওই সময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালটি গঠন করা হয়। ওই ট্রাইব্যুনালের রায়ে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ডজনখানেক শীর্ষ নেতা ফাঁসি কার্যকরসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করেন। যদিও ওই সময় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে ট্রাইব্যুনাল।

 

 

বিবাহ বার্ষিকী কিন্তু আজকে 😀 ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর মরহুম ড. এমএ ওয়াজেদ  মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ হাসিনা।

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের এই দিনে (১৭ নভেম্বর) শেখ হাসিনা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ আলী মিয়ার (সুধা মিয়া) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়ার সময় তার বিয়ে হয়। ২০০৯ সালের ৯ মে ড. এম এ ওয়াজেদ আলী মারা যান।

শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিটি প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এগুলোর মধ্যে এক নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে পাঁচটি অভিযোগ তিনটি কাউন্টে ভাগ করে সাজা প্রদান করা হয়েছে আসামিদের।

তাদের বিরুদ্ধে গঠন করা প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতি-পুতি বলে উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায়’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সশস্ত্র ‘আওয়ামী সন্ত্রাসী’ ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে। প্ররোচনা, উস্কানি, অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এতে।

পূর্বের খবরআজ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় 
পরবর্তি খবরগণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিবেঃ শরিফুল ইসলাম খান