হৃদরোগে জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু

110

ঢাকাঃ সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিএসএমএমইউয়ের কার্ডিওলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকার বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রেজাউর রহমান বলেন, ‘’রাত ৮টা ৪০ মিনিটে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় তার আরেকটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল।‘’ তিনি জানান, মি. সাঈদী বহুদিন ধরে হৃদরোগের জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে তার হৃদপিন্ডে পাঁচটি স্টেন্ট পড়ানো হয়েছিল।

এর আগে রোববার দুপুরে কাশিমপুর কারাগারে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সাঈদীকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা আনা হয়।

এদিন রাতে সাঈদীকে বিএসএমএমইউয়ের কার্ডিওলো‌জি বিভা‌গের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমদের তত্ত্বাবধানে ভ‌র্তি করা হ‌য়। তি‌নি বিএসএমএমইউয়ের ডি ব্ল‌কের দ্বিতীয় তলার সি‌সিইউ-২ এর ৬ নম্বর বেডে ভ‌র্তি ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৯ জুন রাজধানীর শাহীনবাগের বাসা থেকে গ্রেফতার হন সাঈদী। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মোট বিশটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ১৯৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ এবং ধর্মান্তরে বাধ্য করা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর তিনি আধা মিলিশিয়া রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পাকিস্তানী বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

যে বিশটি অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল, তার মধ্যে আটটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এর মধ্যে দুটো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আপীল বিভাগ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৪০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী দক্ষিণাঞ্চলের একজন শৈল্পিক বক্তা ও পীর ছিলেন। তিনি নিজ গ্রামে বাবার নির্মিত মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নেন। এরপর তিনি শার্ষিনা আলীয়া ও খুলনা আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। ১৯৬২ সালে শর্ষিনা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ও তত্ত্বের ওপর অধ্যয়ন করেন। মাওলানা সাঈদী ১৯৯৬ সালে তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত তিনজন সদস্যের সংসদীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালেও তিনি ফের সংসদর সদস্য নির্বাচিত হন। দেশ-বিদেশে তাফসির-মাহফিলে বক্তা হিসেবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তিনি জামায়াতের নায়েবে আমীর ছিলেন।

 

পূর্বের খবরগাউসিয়া কমিটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা উত্তরায় অনুষ্ঠিত
পরবর্তি খবরজাতীয় শোক দিবস আজ