সারাদেশে দেড়লাখ মামলায় ৫০ লাখের বেশি নেতাকর্মীদের নামে মামলা, দাবি বিএনপির

74

অনলাইন ডেস্কঃ বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত এক লাখ পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক মামলায় ৫০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১ নং হলরুমে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি। এ সময় কায়সার কামাল সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যহারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৩৭ -এর অধিক হয়রানিমূলক গায়েবি মামলায় ২০ হাজার ৩২৬ জন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ৭৩ হাজার ১২৩ জন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে। আহত হয়েছেন ৮ হাজার ২৪৯ জনের অধিক নেতা আর ৩৫টি মামলায় গত ৩ তিন মাসে ৬৩৬ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিরোধী দল তথা জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যাহত রেখেছে। সাধারণ মানুষও রেহাই পাচ্ছে না। তারা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা গায়েবি মামলাকে বিরোধী দল দমনের প্রধান অবলম্বনে পরিণত করেছে। এই কাজে তারা রাষ্ট্রের পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে দলীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। সরকার ও সরকারি দল বিচার বিভাগকে তাদের অপতৎপরতার প্রধান বাহনে পরিণত করেছে। বিরোধী দলসমূহের নেতা কর্মীদের বিচারিক হয়রানি এবং উপযুক্ত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে সাজা প্রদান সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের চলমান ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী এবং সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে বর্তমান একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসক কর্তৃক হয়রানি, গুম, খুন, মামলা, গ্রেফতার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাজার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানি থেকে মুক্তি পাচ্ছে না দেশের আইনজীবী সমাজও। আইনজীবীদেরকে নজিরবিহীনভাবে আদালত প্রাঙ্গণ ও চেম্বার থেকেও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ফোরামের সভাপতি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি আব্দুল জব্বার ভুইয়া, সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, মো: আক্তারুজ্জামান, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মাহবুব প্রমুখ।

পূর্বের খবরআসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফশিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
পরবর্তি খবরনয়া মার্কিন শ্রম অধিকার নীতিতে ‘শঙ্কিত হওয়ার কারণ রয়েছে’: বাংলাদেশ দূতাবাস