অনলাইন ডেস্ক:
কর্ণফুলী দখলের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত ভাই ভাই। বন্দরের অসাধু কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং কয়েকজন অসাধু রাজনীতিবিদ মিলে কর্ণফুলীকে হত্যা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কর্ণফুলী রক্ষায় জনগণের প্রতিবাদ মঞ্চ ও অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, কিছু ব্যবসায়ী এবং কয়েকজন অসাধু রাজনীতিবিদ এক হয়ে কর্ণফুলীকে হত্যা করছে। আমরা এখন একটি নতুন স্লোগান তুলবো, রাজাকার নদী-ভূমি দখলকারীরা ভাই ভাই তাদের এক রশিতে ফাঁসি চাই।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম এখনও ঠান্ডা মাথায় আন্দোলন করছে, মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় নামলে আপনারা পালানোর পথ পাবেন না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে ২০১৪ সালে স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস আপনারা কোথায় পান। আমরা সেটা একবার দেখতে চাই।’
সিনিয়র সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুর বলেন, ‘কথিত প্রভাবশালী একের পর একের স্থাপনা করে কর্ণফুলী দখল করছে। এই নদী কি তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। আমরা দেখেছি কর্ণফুলী দখলের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত ভাই ভাই। এরা কখনও জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’
চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘হালদা থেকে কর্ণফুলীর মোহনা পর্যন্ত রক্ষা করা বন্দরের দায়িত্ব। কিন্তু বন্দর কি করছে? আপনার কর্ণফুলীর নাব্য ধ্বংস করে এই শহর ও নদীকে হত্যা করা বন্ধ করুন। কর্ণফুলী মরে গেলে এই শহরের সত্তর লক্ষাধিক মানুষ পানির অভাবে হাহাকার করবে।’
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র, আরএসকে ফাউন্ডেশন, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন নামের ছয় সংগঠনের সম্মিলিতভাবে কাজ করছে এই প্রতিবাদ মঞ্চে।
সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে ও আবৃত্তি শিল্পী দিলরুবা খানম ছুটির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রতিবাদ মঞ্চের প্রধান সমন্বয়ক আলীউর রহমান, পরিবেশ সংগঠক হাসিনা আক্তার টুনু, সমন্বয়ক সাংবাদিক মুজিব উল্ল্যাহ তুষার, তারেকশ্বর দস্তিদার স্মৃতি, চট্টগ্রাম সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি জাফর আহমদ, চরপাথরঘাটা সাম্পান সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন প্রমুখ।





