শিশু সংশোধনকেন্দ্র ধুঁকছে, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বাড়ছে

93
ঢাকাঃ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি পাওয়া শিশু কিশোররা আসে শিশু সংশোধন কেন্দ্রে৷ কিন্তু এগুলোর বেহাল দশার কারণে তাদের সংশোধন কার্যক্রম কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে৷

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধন কেন্দ্র) একটি শিশুর একদিনের  খাবারের জন্য বরাদ্দ ১০০ টাকা। সকাল ও বিকালের নাস্তা এবং দুপুর ও রাতের খাবার এই চার বেলার খাবার দিতে হয় এই টাকায়। কোনো চিকিৎসক নেই। প্রাথমিক চিদিৎসারও ব্যবস্থা নেই। পাঁচটি ট্রেডে প্রশিক্ষণের জন্য একজন প্রশিক্ষক কাগজে-কলমে থাকলেও তার দায়িত্ব অন্য জায়গায়।

এই হলো আদালতের মাধ্যমে শাস্তি পাওয়া বা মামলায় জড়ানো শিশু-কিশোরদের সংশোধন কেন্দ্রের অবস্থা।

বাংলাদেশে এরকম শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র আছে মোট তিনটি। সামাজ সেবা অধিদপ্তর এগুলো পরিচালনার দায়িত্বে আছে। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দুইটি গাজীপুরে। গাজীপুরের টঙ্গীর কেন্দ্রটি ছেলেদের জন্য। আর মেয়েদের কেন্দ্র গাজীপুরের কোনাবাড়িতে। আরেকটি কেন্দ্র আছে যশোরের পুলের হাওটে৷ সেটা ছেলেদের জন্য।  টঙ্গীর কেন্দ্রটিতে ৩০০ কিশোরের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও এই প্রতিবেদন লেখার দিন (বৃহস্পতিবার) সেখানে মোট ৭৫০ জন ছিল। কখনো কখনো সংখ্যাটা এক হাজারও ছাড়িয়ে যায়। আর যশোরের কেন্দ্রটিতে ধারণক্ষমতা ১৫০ জন, কিন্তু আছে ৪০০।  কোনাবাড়িতে মেয়েদের কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ১৫০, তবে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে কম আছে।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে শিশুদের কেস ওয়ার্ক, গাইডেন্স, কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়ন, ডাইভারশন, ভরণপোষন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসিত করা এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা।  কিন্তু বাস্তবে তাদের সেখানে অনকেটা বয়স্ক আসামির মতোই রাখা হয়। ফলে ওই কেন্দ্রগুলোতে প্রতি বছরই কোনো না কোনো অঘটন ঘটে। এরমধ্যে সংঘর্ষ, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, পালিয়ে যাওয়া, কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতো ঘটনাও আছে । ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তিন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতনে আহত হয় আরো ১২ কিশোর। কেন্দ্রের অনিয়ম আর দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তাদের ওই নির্মম পরিণতি হয় বলে জানা যায়। ওই একই কেন্দ্রে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক কিশোর আত্মহত্যা করে। ২০২১ সালের জুন মাসে ওই কেন্দ্রে দুই গ্রুপ কিশোরের মারমারিতে কয়েকজন আহত হয়।

২০২১ সালে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিহাব মিয়া নামে এক কিশোর খুন হয়। সেই হত্যাকাণ্ড কিশোরদের মধ্যে মারামারির কারণে বলে তখন কর্তৃপক্ষ দাবি করে। চলতি বছরের ২৪ আগস্ট  রফিকুল ইসলাম নামে এক কিশোর মারা যায়। অভিযোগ ওঠে তার সুচিকিৎসা হয়নি৷ ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে রিয়াজুদ্দিন  নামে এক ভারতীয় কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এই কেন্দ্র থেকে কিশোরদের অনেক বার পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে।

বাস্তবে বাংলাদেশে শিশু আদালত আলাদাভাবে নেই: ইশরাত

২০২২ সালের নভেম্বরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিশু ও কিশোর থাকার কথা তুলে ধরা হয়। তারা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র আরো বাড়ানো এবং অনিয়ম দূর করার কথা বলেন। কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বৃহস্পতিবার বলেন, “ওইসব কেন্দ্রের যা অবস্থা তাতে শিশু-কিশোররা ভালো মানুষ হওয়ার পরিবর্তে আরো খারাপ হয়। তারা মানবেতর জীবন-যাপন করে সেখানে। আমরা  আরো ছয়টি নতুন  কেন্দ্র করার সুপারিশ করেছি। সরকার এর মধ্যে দুইটি নতুন কেন্দ্র নির্মাণ করছে।”

তিনি বলেন, ” কিশোর অপরাধ কমাতে হলে ওই শিশুদের ভালো জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর উন্নয়ন কেন্দ্রের বাইরেও রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের দায়িত্ব আছে।”

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ( সহকারি পরিচালক) মো. মঞ্জুরুল হাছান বলেন, “ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিশু-কিশোর রাখাই হলো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে তাদের দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই। আর প্রতিজনের জন্য দিনে যে ১০০ টাকা খাবারের বরাদ্দ দেয়া হয়, তার মধ্যে জ্বালানি খরচও আছে। নাস্তা ও খাবারসহ একজনের জন্য প্রতিবেলায় ২৫ টাকারও  কম বরাদ্দ আছে।”

তিনি বলেন, “এই কেন্দ্রে অনুমোদিত জনবল আছে ৪৯ জন। কিন্তু ওইসব পদের বিপরীতে লোক আছে ২৪ জন। পর্যাপ্ত জনবল আর থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই শিশু- কিশোরদের ম্যানেজ করা কঠিন কোনো কাজ নয়।”

টঙ্গী কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা দাবি করেন, “এই কেন্দ্রটি তৈরি হয়েছিল ২০০ জনের জন্য।  পরে সেটা ৩০০ জনের জন্য অনুমোদন করা হয়। তারপরও এখন আছে ৭৫০ জন। কখনো কখনো এক হাজারেরও বেশি হয়।”

তিনি বলেন,  “এখানে অনুমোদিত জনবল ৫৭ জনের মধ্যে আছে ৩৭ জন। কিন্তু তারও একটি অংশ এখানো নিয়োগ দেখিয়ে কাজ করানো হয় অন্য জায়গায়। কম্পিউটারসহ পাঁচটি ট্রেডে প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষক আছেন একজন। তাকেও আবার অন্য কাজে লাগানো হয়।”

তার কথা, ” আমার অভিজ্ঞাতায় দেখেছি এখানে যে শিশু -কিশোররা আসে তারা সঠিক পথে যেতে চায়। তারা অনুতপ্ত। কিন্তু তাদের যে সাপোর্ট দেয়া দরকার সেটা এখানে নাই। তাদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের ব্যবস্থা নেই।”

অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ছেলেদের দুইটি নতুন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই দুইটির কাজ শেষ হলে পুরোনো কেন্দ্রের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। আর বাজেট বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে।

বাংলাদেশের এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র তিনটি মূলত শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্র। ২০১৩ সালের শিশু আইনে এগুলো পরিচালিত হওয়ার কথা। কেন্দ্রগুলোতে নানা অপরাধে অভিযুক্ত এবং দন্ডিত শিশুদের রাখা হয়। মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের সংশোধনের মাধ্যমে সামাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ” বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০-এ বলা হয়েছে ৯ বছর পর্যন্ত কোনো শিশুর অপরাধ কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবেনা, যদি সেটা হত্যাকান্ডও হয়। কারণ ওই বয়সে শিশুদের কোনটা অপরাধ আর কোনটা অপরাধ নয় সেই জ্ঞানই হয় না। এরপর থেকে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের শাস্তির মাত্রা কম হবে।  তাদের বিচার হবে শিশু আদালতে।”

তিনি বলেন, ” কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে শিশু আদালত আলাদাভাবে নেই। জেলাগুলোতে অন্য আদালতের বিচারকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। আর থানা থেকে পুলিশ শিশুদের ইচ্ছেমতো বয়স বাড়িয়ে দিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখানো হয়। ফলে শিশুরা শুরুতেই হয়রানির শিকার হয়। শিশু আইনের সুবিধা পায় না। পরে আদালতে আবেদন করে বয়স নির্ধারণ করতে পারলে  সেই সুবিধা পায়। তার আগেই তাদের ক্ষতি হয়ে যায়। প্রাপ্ত বয়স্কদের সাথে কারাগারে রাখা হয়। সাধারণ আদালতে প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো হাজির করা হয়।”

সীমিত জনবল দিয়ে তাদের দেখভাল করা কঠিন: মঞ্জুরুল

সমাজ সেবা অধিদপ্তরে প্রবেশন অফিসার রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে থানার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কোনো শিশু আটক হলে তাদের বয়স নির্ধারণে সহায়তা করা। কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন না। তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়মিত গিয়ে দেখার কথা, তা তারা করেন না। আবার জেলায় জেলায় কমিটি থাকলেও তারা কোনো কাজ করে না।”

ইশরাত হাসান বলেন, ” শিশু আইনের সুবিধা যারা পায়, তাদের যখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় তারা আরো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। সংশোধন হওয়ার পরিবর্তে তাদের অপরাধী হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় পরিবেশের কারণে। ”

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। আর কিশোর গ্যাং নিয়ে খোদ পুলিশ বাহিনিতেই এখন উদ্বেগ আছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২২৫টি। ওই সদস্যরা আলাদা আলাদাভাবে ১১০টি গ্যাংয়ের সদস্য। আর ১১০টি গ্যাং-এর সদস্য প্রায় এক হাজার। ওই সময়ে বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের ৫২৯ জন সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-র তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ৫২টি। সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০০। ঢাকায় মিরপুরে এখন কিশোর গ্যাং সবচেয়ে বেশি। পুলিশের হিসাবে পুলিশের মিরপুর বিভাগে ১৩টি কিশোর গ্যাং-এর ১৭২ সদস্য সক্রিয়। কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা এলাকাভিত্তিক মাদকের কারবার, মাদকসেবন, মাদক সরবরাহ, ছিনতাই, ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এমনকি খুনের মতো অপরাধেও জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে।

কিশোর অপরাধ  গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান মনে করেন, “এই শিশু কিশোরদের অপরাধের জন্য দায়ী করে পার পাওয়া যাবে না। এর দায় রয়েছে রাষ্ট্র সমাজের ও পরিবারের। শিশুদের  শিক্ষাসহ আরো যেসব সুযোগ সুবিধা পাওয়া দরকার তা তারা না পেলে বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হচ্ছে। আর অপরাধীরা শিশুদের ব্যবহার করে। তাই শিশুদের জন্য পরিবেশ দিতে হবে।”

তার কথা, “আমাদের এই সমাজ শিশু বান্ধব নয়।  তাই শিশুদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে শিশুরা অপরাধ করেনা। তারা ভুল করে। তাই সবখানেই তাদের সংশোধনের পরিবেশ থাকতে হবে। এখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আমরা যে পরিবেশের কথা শুনি তাতে তো শিশু শেষ পর্যন্ত অপরাধী হয়ে ওঠার আশঙ্কা আছে।”

‘বিপথগামী কৈশোরকাল’ পথ দেখাবে কে?

চা বাগানে শিশু কিশোররা মোবাইল ফোন দেখছে
প্রতীকী ছবি

শহর ঢাকায় খেয়াল করলে দেয়ালে দুটো বিষয় চোখে পড়ে৷ প্রথমত রকমারি আহ্বানের চিকা৷ দ্বিতীয়ত নানাবিধ গ্রাফিতি৷ এর বড় একটা অংশ করে থাকে কিশোর গ্যাং৷ নিজ দলের নাম লিখে পাড়ায় বা এলাকায় অস্তিত্ব জানান দেয় তারা৷ দেয়াল থেকে এসব নাম মুছে ফেলা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি ‘কিশোর গ্যাং’ নামে যে অপসংস্কৃতি তা উপড়ে ফেলা৷ কম বয়সীদের এই অপরাধ-চক্র বড়দের প্রক্রিয়ায় থামানো সম্ভব নয়৷ আমাদের আইনও সে কথাই বলে৷

বয়স আঠারোর নিচে হলে সাজার চেয়ে নিজেকে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নেওয়ার সুযোগ বেশি পায় কিশোরকালের অভিযুক্তরা৷ যেন ‘ভীতি পুলিশ’ নয়, ‘নীতি পুলিশ’ এখানে বেশি কেজো৷ তা কী আদৌ কাজে আসছে- সেই প্রশ্নও থাকতে পারে৷ আবার দেশের কিশোর সংশোধনকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও দায়িত্বরতদের সদিচ্ছার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে৷ আবার আইনের প্রয়োগে প্রাথমিক ধাপে যারা আছেন, সেই থানা-পুলিশ প্রসঙ্গও আলোচনার বাইরে থাকতে পারে না৷

কিশোর গ্যাংয়ের ডাকু বা দস্যুপনা নয়, আমাদের পুলিশের প্রায়ই চোখ যায় ‘চুলে’৷ গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর কিংবা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এলাকার কিশোর-তরুণদের মাথার কেতা কেমন হবে, সেটা নির্ধারণ করে দিতে চান৷ চুলের বিরুদ্ধে নামে অভিযানে৷ ছেলেদের বড় চুল, রাঙা চুল, এলো চুল যেন সব অপরাধের অভয়ারণ্য৷ অথচ আমরা দেখেছি, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই মাথার ছাঁটে পুলিশের কাছাকাছি৷

‘চুলের স্বাধীনতা’ পাওয়া কেউ কেউ অবশ্য বিষয়টির অপব্যবহারও করেছেন৷ এক্ষেত্রে আমরা আপাতত টিকটকের এক পরিচিত মুখের কথা মনে করতে পারি৷ তার চুল দেখে কেউ ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’ বলতেই পারেন, তবুও রঙ-নকশা কোনো অপরাধ হতে পারে না৷ তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং গড়ার চেষ্টা করছেন, এমন অভিযোগ যখন সামনে আসে, তখন চুলও তার জন্য ইতিবাচক ব্যাপার হিসেবে আর থাকে না৷ রাজধানীর উত্তরার রাস্তা দখল করে টিকটক ভিডিও করতে গিয়েই ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন সেই টিকটকার৷ তিন বছর আগের সেই ঘটনা মামলা অবধি গড়ায়৷ তাকে তখন গ্রেপ্তারও করা হয়৷

এই আগস্ট মাসে ঢাকার সেন্ট্রাল রোডের একটি ডাকাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ যেখানে ডাকাত দলটির নেতৃত্ব দেয় এক ‘কিশোরী’৷ এখানেও অভিযুক্তরা নাকি সবাই টিকটক ভিডিও করতো৷ আর তাদের অনেকেই নাকি আবার মাদকাসক্ত৷ এই মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়েই অনেক কিশোর সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ছে৷ তাই ‘কিশোর গ্যাং’ তৈরির মূলে যা কিছু আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো নেশাদ্রব্য৷ কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি৷ কিন্তু মাদকের যোগান থাকার দায় গড়াবে আবার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রশাসনের কাঁধে৷ পুলিশ সক্রিয় থাকলে একজন কিশোরের পক্ষে মাদক কেনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়৷

মাদকের বাইরেও ঘটনা থাকে৷ পাড়ায় কে বড়, কে ছোট-এ নিয়ে দাদাগিরিও কিশোর গ্যাংয়ের পত্তনে ভূমিকা রাখে৷ এমন কারণেই গেল মে মাসে ঢাকার দনিয়ায় মুশফিক তাজুন নামে এক কিশোরকে প্রাণ দিতে হয়েছে৷ শহরতলী বা তৃণমূল তো নজরদারির বাইরেই বলা যায়, কিন্তু কেন্দ্রে বনানীর মতো এলাকায় যখন কিশোর গ্যাং উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে যায়, মানুষকে উত্যক্ত করে, ছিনতাই-রাহাজানিতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার দায় নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের৷ সম্প্রতি তারা অবশ্য ‘পিচ্চি জয়’ নামে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করেছে৷ কিন্তু এ ধরনের কিশোর অপরাধী দল জন্মের শুরুতেই ঠেকানো যায়নি কেন? কিশোর গ্যাং নামে অপসংস্কৃতি যে চলছে, তার পেছনে পরিবারের অসচেতনতা, সমাজের গোঁড়ামি না রাষ্ট্রের গাফিলতি দায়ী? সব পক্ষকেই নিতে হবে সমান সমান দায়৷ নিজ নিজ জায়গায় যার যার ভূমিকা ঠিক থাকলে দেখা যাবে- ‘জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম অধ্যায় কৈশোরকাল’, মনোচিকিৎসক ডা. মোহিত কামালের এই পঙতির কাছে পরাজিত হবে, তারই রচিত আরেক পঙতি- ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ও কৈশোরকাল’৷

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ: বর্তমান প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ দমনে আইনের প্রয়োগ যেমন জরুরি তেমনি জরুরি পরিবারের ভূমিকা৷ সমাজের বিকাশ নিয়ে যারা কাজ করেন,তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কিশোর অপরাধ দমনে৷

Bangladesch Gericht in Dhaka

গত ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২৩’ উদযাপন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ চালাবে৷ বক্তব্যটি আশাব্যঞ্জক নিঃসন্দেহে৷ আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ এখন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে আমাদের এই যাত্রা একদিকে যেমন নতুন আশার সঞ্চার করছে, তেমনি কতগুলো প্রশ্নের সামনেও আমাদের দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে৷ সমাজের প্রচলিত নানা অপরাধের ধরন পাল্টেছে,এমনকি ডিজিটাল ও স্মার্ট মাধ্যমকে ব্যবহার করে অপরাধপ্রবণতাও বাড়ছে চারপাশে৷

গত দুই দশকে বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ নানাভাবে আলোচনায় এসেছে৷ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন কিছু ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যায়, যেখানে কিশোর অপরাধের ধরনধারণ দেখলে আমাদের গা শিউরে ওঠে৷ বর্তমানে কিশোর অপরাধের পরিধিও অন্যান্য অপরাধের মতো বেড়েছে৷ বিশেষ করে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না থাকায়,কিশোর অপরাধ একটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে৷ এই বাস্তবতাগুলো সামনে রেখে শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখতে গেলে নিজেদেরকে আয়নার সামনে দাঁড় করাতে হয়৷ আমরা সত্যিই কি পারছি আমাদের শিশু-কিশোরদের স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী করে গড়ে তুলতে?

কিশোর অপরাধ আমার মতে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ ব্যাপারটি এমন নয় যে,হঠাৎ করেই কিশোররা নানা ধরনের ‘গ্যাং-কালচার’-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে৷ ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রায় ২৫টি কিশোর অপরাধের সংবাদ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়,প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে পরিবার,সমাজ, এমনকি রাষ্ট্রীয়ব্যবস্থার নানা সংযোগ রয়েছে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী৷ সুতরাং এককভাবে কেবল কিশোর অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব,এটা ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না৷

একটু ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি পরিষ্কার করা সম্ভব৷ কিশোরদের মানসিকতায় যে ধরনের ফ্যান্টাসি কাজ করে,তার একটি বড়ো অংশ তৈরি হয় প্রচলিত সমাজব্যবস্থা থেকে৷ সমাজে নৈরাজ্য বিরাজ করলে কিশোর-কিশোরীদের মানসিকতায় সে নৈরাজ্যের একটি প্রভাব পড়ে৷ সে তখন তার অংশ হতে চায়৷ এটা যে কেবল বর্তমানের কিশোর-কিশোরীদের সমস্যা,তা কিন্তু নয়৷ আশির দশকে যারা কিশোর ছিলেন,তাদের অনেকের কাছেই আমি শুনেছি বা এখনও শুনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ত্রাস গোলাম ফারুক অভিকে তাদের ভালো লাগত৷ আমি যখন পাল্টা প্রশ্ন করি,কেন একজন সন্ত্রাসীকে আপনাদের ভালো লাগতো,তখন তারা যে উত্তরটি দেয়,আজকের কিশোর-কিশোরীরাও তাদের এ ধরনের পছন্দের ক্ষেত্রে খুব একটা ভিন্ন উত্তর দেয় না৷ তাহলে পরিস্থিতিটি দাঁড়াচ্ছে এই যে,সমাজে সন্ত্রাস বিস্তারে যে ব্যক্তিটি দায়ী,কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রীক ফ্যান্টাসির কারণে কিশোর-কিশোরীরা তাকে পছন্দ করছে৷ তার অবৈধ অস্ত্রটিকে মনে করছে তার অলংকার৷

এই পরিস্থিতিই একটু ভিন্নভাবে কাজ করছে বর্তমান সময়ে৷ আজকের কিশোর-কিশোরীদের মনস্তত্ত্বে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও নানা ধরনের বিষয়৷ সবগুলো এখন আর ফ্যান্টাসির মধ্যে নেই,কোনো কোনোটি সে তার বাস্তবজীবনে প্রয়োগও করতে পারছে৷ ধরা যাক,গুরুত্বপূর্ণ কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী বা রাজনৈতিক নেতার সন্তান তার পরিবারকে ক্ষমতার উৎস হিসেবে দেখে৷ ফলে ওই কিশোর অল্প বয়সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে চায়৷ আমি বলছি না সকলেই এ ধরনের,কিন্তু সংশ্লিষ্টরা একটু মনোযোগ দিয়ে ভাবলেই দেখবেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে তাদের অভিভাবকদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক অবস্থানটি সক্রিয় থাকে৷ কী রাস্তাঘাটে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে,রেস্তোঁরায় বা বিনোদনকেন্দ্রে তারাঅনায়াসে সেই ক্ষমতাটি ব্যবহার করতে চায়৷ এর জন্য কিন্তু সেই কিশোর বা কিশোরী দায়ী নন,দায়ী তার অভিভাবক;কারণ ওই অভিভাবক তাকে শিখিয়েছে, কীভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করতে হয়৷ একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী বা রাজনৈতিক নেতা যখন তার সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকের পরিচয় বাদ দিয়ে পেশাগত পরিচয় নিয়ে হাজির হয় বা তার প্রশাসনিক ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করে,তখন তার সন্তানের মাঝে একধরনের মিথ্যা ‘হিরোইজম’ তৈরি হয়৷ তার কাছে শিক্ষক বা শিক্ষকের মর্যাদা বিষয়টি গুরুত্ব পায় না৷ এ ধরনের অনেক ঘটনা আমরা দেখেছি,যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছে৷ কারণ সে জানে,সমাজে শিক্ষকের কোনো মর্যাদা নেই৷ এই একই ঘটনা বাকি শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে ভিন্নভাবে৷ একই ক্লাশে পড়া দুজন শিক্ষার্থীর একজন যখন তার বাবা-মায়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করেন নানাভাবে,তখন অন্যজন নিজেকে  বঞ্চিত ভাবে,কারণ তার পরিবারের সে ক্ষমতা নেই৷ ফলে নিজের পরিবারের সাথে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয় তার৷ ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য সে পরিবারের চেয়েও ক্ষমতাবান কাউকে আশ্রয় করে৷ এভাবেই শুরু হয় গ্যাং-কালচার৷ সে তখন ভিন্নভাবে ক্ষমতাবান হওয়ার চেষ্টা করে৷সঙ্গীতা ইমাম, শিক্ষক, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীসঙ্গীতা ইমাম, শিক্ষক, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী

আমি মনে করি,অভিভাবকের প্রশাসনিক বা আর্থিক ক্ষমতা ও পেশাগত অবস্থানের যে রোশনাই সমাজে বিরাজ করছে,সেটা কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ৷ সমাজে ক্ষমতাকেন্দ্রিক যে ব্যবস্থা চলমান,সেটা বজায় রেখে কোনোভাবেই কিশোর অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়৷ এর সঙ্গে পরিবারের শিক্ষাটিও গুরুত্বপূর্ণ৷ সন্তান যদি মনে করে সরকার থেকে দেওয়া বাবা কিংবা মায়ের গাড়িটি সে-ও ব্যবহার করতে পারে,তখন সে সন্তানের মাঝে কখনোই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জন্মাবে না৷ কারণ তার শুরুটাই হলো একটি আইনভঙ্গের মাধ্যমে৷ মা-বাবার দায়িত্ব সন্তানকে এ বিষয়টি বোঝানো৷

বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহার কিশোর অপরাধকে আরও জটিল করে তুলেছে৷ এখন এই অপরাধের সীমা কেবল আর গ্যাং-কালচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই৷ প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক নানা অপরাধও এখানে ঘটছে,ঘটছে মাদকদ্রব্য ব্যবহার ও বিপণনের মতো অপরাধও৷ এর মূল কারণ প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহার৷ যেভাবে ইউটিউবের একটি ভিডিওর মধ্যে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তাতে যে কোনো বয়সের ব্যক্তিই সহজে সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারে৷ এ বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের নীতিমালাও আমাদের চোখে পড়ে না৷ বিভিন্ন অনলাইন মেসেজ অ্যাপ যেভাবে মাদক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা রীতিমতো গা শিউরে ওঠার মতো৷ ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল নিশ্চিত করলেই হবে না,কোন বয়সের মানুষ সে প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, তারও একটি নির্দেশনা ও নজরদারি থাকা জরুরি৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদেই আমি দেখেছি, বর্তমানে অনেক কিশোর-কিশোরী এমনসব দামি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, যা বেমানান তো বটেই,তার প্রয়োজনীয়ও নয়৷ পরিবারই তার হাতে এই ফোনটি তুলে দিচ্ছে,কিন্তু ফোনে তার কার্যক্রম কী সেটা পরিবার জানতে পারছে কি?

ফলে আমি মনে করি,বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ দমনে আইনের প্রয়োগ যেমন জরুরি তেমনি জরুরি পরিবারের ভূমিকা৷ সমাজের বিকাশ নিয়ে যারা কাজ করেন,তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কিশোর অপরাধ দমনে৷ আর এই ভূমিকাগুলো মোটেও বিচ্ছিন্ন নয়,বরং সমন্বিত কর্ম-পরিকল্পনা থাকাটা জরুরি৷ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতাকেন্দ্রিকতার যে উৎকট রূপ আমরা দেখি,তা যেমন দমন করা প্রয়োজন;তেমনি প্রয়োজন পরিবারের আদর্শিক অবস্থান৷ বর্তমানে বাংলাদেশে পারিবারিক আদর্শ বিষয়টি প্রায় বিলুপ্ত৷ আইনের প্রয়োগ করে কিশোর অপরাধীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে,কিন্তু পরিবার ও সমাজের যৌথ পরিকল্পনা না থাকলে কিশোর অপরাধকে দমন করা সম্ভব নয়৷

পূর্বের খবরদেশে নির্বাচনের ‘প্রত্যাশিত অনুকূল পরিবেশ’ না থাকলে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে?
পরবর্তি খবরসারাদেশে ইসরাইলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের জন্য দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত