রাজবাড়ীর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ জাহাঙ্গীরকে

121

ঢাকাঃ মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে রাজবাড়ীর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক সুমন হোসেন এ আদেশ দেন।

এর আগে ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলী আদালতে মামলাটি করেন মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি নামক সংগঠনের রাজবাড়ী পৌর কমিটির সভাপতি শশী আক্তার। তিনি পেশায় ছাত্রী। তার বাড়ি শহরের পুলিশ লাইনস এলাকায়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দেন। সম্প্রতি পিবিআই তদন্ত শেষে সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শেখ মো. মেহেদী হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন বিবাদী। তিনি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করেছেন। বিবাদী মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। এতে সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে বাদী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নম্বর ৭৭২/২০২১। পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক সুমন হোসেন  গাজীপুরের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে ৫০০/৫০৪ ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২৫ অক্টোবর রাজবাড়ী আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

২০২১ সালে গোপনে ধারণ করা জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি এবং দলীয় সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিস্কার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী কাজী রাজিয়া সুলতানা জয়ী। গত ৩০ এপ্রিল জাহাঙ্গীরের বরাবর তালাকের নোটিশ পাঠান স্ত্রী জয়ী। তালাকের নোটিশের বিষয়টি সোমবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানাজানি হলে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জাহাঙ্গীর জয়ী দম্পতির। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী জয়ীকে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার করে আসছিলেন। নিয়মিত ভরণপোষনও দেওয়া হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৬১ইং সালের মুসলিম পারিবারিক আইন ৮-নম্বর- অধ্যাদেশ, ৫২-নম্বর আইনের ধারা মতে স্ত্রী কর্তৃক তালাক গ্রহণের নোটিশ।
নোটিশে বলা হয়, আমি নিন্ম স্বাক্ষরকারিনী কাজী রাজিয়া সুলতানা জয়ী। বাবার নাম কাজী ইকবাল বাহার। মা মিসেস ফরিদা ইকবাল। মিরপুরের শাহ আলীর জি-ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাসা।
facebook sharing button
twitter sharing button
পূর্বের খবরদেশের ২৫ সরকারি বেসরকারি ওয়েবসাইট ভারতীয় হ্যাকারদের দখলে
পরবর্তি খবরএইচএসসি ও সমমানের ১০ লাখ শিক্ষার্থী আজ পরীক্ষায় বসছে