যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত

197

দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ রবিউল আউয়াল) সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। মহান আল্লাহর হাবিব আখেরি নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্ম এবং ওফাতের দিন এটি। হিজরি সালের তৃতীয় মাস পবিত্র রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে বিশ্বনবী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আবদুল্লাহ। খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জিতে তাঁর জন্মবছর ছিল ৫৭০ সাল। একই তারিখে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন।যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় সারাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

 

ঢাকাঃ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আজ শুক্রবার রাজধানীসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবসই হচ্ছে বিশ্বের মুসলিম সম্পদ্রায়ের কাছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ।

এ উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে আজ জুমার নামাজের সময় দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বয়ান এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

জুমার নামাজের রাজধানীর নানা জায়গায় জসনে-জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে খন্ড-খন্ড মিছিল বের হতে দেখা যায়।

এদিকে,দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক বাণীতে তারা উভয়েই দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

মূলতঃ আরবি সালের ১২ রবিউল আওয়াল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস । আরবি মাসের হিসেব শুরু হয় সন্ধ্যা রাত থেকে।

এজন্য, ১২ রবিউল আওয়াল শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ এবং বাসবাড়িতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে কোরআন খতম ও জিকির-আজগারের বিশেষ মোনাজাতে নিজ-নিজ পরিবারের সদস্য এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমত কামনা করেন।

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে এসেছিলেন তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের মহান বাণী নিয়ে। সে সময় আরবের সমাজ ছিল পৌত্তলিকতা, ঘোরতর অন্যায়-অবিচারের অন্ধকারে নিমজ্জিত। ‘আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগ’ বলে সেই সময়টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অন্ধকারে মহানবী (সা.) এসেছিলেন আলোকবর্তিকার মতো।

শৈশব থেকেই হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, বিচক্ষণতাসহ অনুপম চারিত্রিক গুণাবলি, অপরিমেয় দয়াসহিষ্ণুতা, সহমর্মিতার মতো মহৎ গুণের জন্য আরব সমাজের সবার কাছে শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠেছিলেন। নবুয়ত লাভের আগেই ‘আল-আমিন’ তথা বিশ্বস্ত অভিধায় তাঁকে সম্মানিত করেছিল আরব সমাজ।

হেরা পর্বতের গুহায় গভীর ধ্যানে নিমগ্ন থেকে হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে ওহি লাভ করেন। এরপর পরম করুণাময় আল্লাহর নির্দেশে দীর্ঘ ২৩ বছর কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচার করেন। আল্লাহর প্রতি অসীম ও অতুলনীয় আনুগত্য এবং ভালোবাসার পাশাপাশি মহৎ মানবিক চারিত্রিক গুণাবলির জন্য তিনি সর্বকালে সর্বজনের কাছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে অভিষিক্ত।

এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে আজ শুক্রবার বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার এবং অন্যান্য স্যাটেলাইট টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে এবং করছে।

অপরদিকে আজ ছিল সরকারি ছুটি । তবে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সরকারি ছুটির গুরুত্ব বোঝা যায়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মসূচি অনুযায়ী সব অনুষ্ঠান করা হচ্ছে এবং হবে। বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ইফার অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়াও এ দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলাসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনীর ওপর আলোচনা সভা ও মাহফিলসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করে।

৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল ইসলামের শেষ নবী (সা.) আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এ দিনে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করে আসছে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়।

একটা সময় আরবজাহান ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মানুষ হয়ে পড়েছিল বেদিন। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা।

মারামারি আর হানাহানিতে লিপ্ত ছিল মানুষ। মূর্তিপূজা করত। এ যুগকে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’। এ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে, তাদের আলোর পথ দেখাতে আল্লাহতায়ালা মুহাম্মদ (সা.)-কে এ পৃথিবীতে পাঠান।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবী সৃষ্টি করতেন না।’ এ কারণে এবং তৎকালীন আরবজাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি।

এদিকে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ও আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে চট্রগ্রামে বিশ্বের বৃহত্তম জশনে জুলুসে ঈদ এ মিলাদুন্নবী (ﷺ) শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়। চট্টগ্রামে আল্লামা তাহের শাহ হুজুরের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে পবিত্র জশনে জুলুস, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চট্টগ্রামে লাখো নবী ভক্তের ঢল। বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে পালিত ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপিত।

https://fb.watch/nlI2unXJ8j/

এর আগে ২৪ সেপ্টম্বর ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাষ্ট ঢাকার উদ্যোগে আজ মোহাম্মদপুর এলাকায় জশনে জুলুছ র‌্যালী বের হয়। জুলুছ (র‌্যালী) পরবর্তী মাহফিলে সমাজের সত্যিকারের আদর্শবান, নৈতিকবোধ সম্পন্ন ও দেশ প্রেমিক দ্বীনদার মানুষ গড়ার জন্য প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লামের অনুপম আদর্শ অনুসরণ করাই যথেষ্ঠ বলে মন্তব্য করেছেন পীর আল্লামা সাবির শাহ্ (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী)। আজ র‌্যালীটি ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলিয়া (কামিল) মাদ্রাসা হতে আরম্ভ হয়ে শাহজাহান রোড, ইকবাল রোড, আসাদ এভিনিউ, শিয়া মসজিদ, রিং রোড, শ্যামলী সড়ক সমূহ প্রদনি করে পুনরায় মাদ্রাসা ময়দানে গিয়ে বিশাল মাহফিলে পরিণত হয়। জুলুছের নেতৃত্ব এবং মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৪১ তম আওলাদ হযরতুল আল্লামা আলহাজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী)। প্রধান অতিথি ছিলেন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা আলহাজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসিম শাহ্ (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী)।
ড. মাওলানা মুহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) আরও বলেন,এক দিকে সন্ত্রাসবাদ অন্য দিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আঘাতে বর্তমান পৃথিবীর মানুষ আজ দিশেহারা। শান্তির খোঁজে ছুটছেন মানুষ। মৌলিক অধিকার বঞ্চিত পৃথিবীর অধিকাংশ জনগোষ্ঠী। সম্মদের পাঁহাড় করছে কিছু মানুষ। অন্যদিকে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও বাসস্থানের অভাবে আছে বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ জণসাধারণ। অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে প্রতিবছর শরণার্থী করা হয় অসংখ্য মানুষকে। বিশেষকরে অনেক জায়গায় মুসলিম নিধন ঘটে নীরবে। অন্যদিকে, নৈতিক ও যথাযথ ধমীয় শিক্ষা ও অনুশীলনের অভাবে সমাজে খুন-খারাবি, ঘুষ-দুর্নীতি, নারী-নির্যাতন ইত্যাদি লেগেই আছে। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ও শিক্ষার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন। এই শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের অন্তরাত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং ইহলোক ও পরোলোকে শান্তি নসিব হয়।
বিশেষ অতিথি শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসিম শাহ (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) বলেন, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুতির কারণেই মূলত পৃথিবীতে অশান্তি নেমে এসেছে। যারা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে নবী অলিদের প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে হাজার বছর ধরে চলে আসা ইসলামী অনুষ্ঠানমালা যেমন ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী, শবে বরাত, শবে মেরাজ ও ফাতেহা ইত্যাদির বিরোধীতা করে, তাদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা দরকার। তিঁনি আরও বলেন, আল্লাহ পাকের নেয়ামত সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৃষ্টি। তাঁহার সৃষ্টিতে ধন্য হয়েছে সমগ্র সৃষ্টিজগত। যাঁর সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ বলেন, আপনাকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি করতাম না (আল-কোরআন)।

https://fb.watch/nlH27DKgLT/

 

পূর্বের খবরবিশ্বে গণতন্ত্র এখন হুমকির মুখে: জাতিসংঘ আন্তোনিও গুতেরেস
পরবর্তি খবরনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ফয়সালা চায় দুই দল