মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সর্বত্র আলোচনায়

27

ঢাকাঃ এই সময়ে বাংলাদেশে সর্বত্র একটি আলোচিত নাম পিটার ডি হাস। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি ছুটছেন সকাল-বিকাল। শুনছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা, বলছেনও। তার হাঁটা-চলা যেন সবারই মুখস্থ। তার নিজের কথায় অবশ্য তেমন পরিবর্তন নেই। নগর বিচ্ছিন্ন চায়ের দোকান কিংবা ঢাকায় পার্টি হেডকোয়ার্টার। কূটনৈতিক আড্ডা অথবা রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি। বাংলাদেশে একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথাই তিনি বলে যাচ্ছেন নিরন্তর। এটাই যেন তার প্রধান ব্রত।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে তারদিকে দৃষ্টিও তত প্রখর হবে। তিনি সরব হয়েছেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়েও। কখনো কখনো তার সমালোচনা হয়েছে। তবে এসবে তিনি রা করেননি। পিটার হাস ঢাকায় ১৭তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশে আসার আগে তিনি দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থনৈতিক ও ব্যবসাবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। মুম্বইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। লন্ডন, বার্লিন, জাকার্তা, ওয়াশিংটনেও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ পদে।

পিটার হাস এমন এক সময় ঢাকা মিশন শুরু করেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল প্রায় তলানিতে। তার পূর্বসূরি বেশ ক’জন রাষ্ট্রদূতের বিদায় ছিল ঘটনাবহুল। ৬৪ জেলা ঘুরে আলোচনায় আসা ড্যান মজিনাকে সরকার প্রধানের সাক্ষাৎ ছাড়াই বিদায় নিতে হয়েছে। মার্শা বার্নিকাট ঢাকায় আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ১০ই ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এলিট ফোর্স র‌্যাব এবং সংস্থাটির উচ্চ পদস্থ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতিতে বিদায় নেন রাষ্ট্রদূত মিলার। কাছাকাছি সময়ে দায়িত্ব নেন পিটার হাস। ঢাকার মাটিতে পা রাখার আগেই পিটার হাসের বিষয়ে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়। নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে সম্পর্কে গতি ফেরাতে তিনি কী ভূমিকা রাখতে পারেন তাতেই নজর ছিল সবার। ঢাকায় পৌঁছানোর ১৫ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে মিশন শুরু করেন পিটার হাস। সেই থেকে আজ অবধি আলোচনায় তিনি। সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও। হিসাবে দেখা গেছে, ৫১৮ দিন ধরে বাংলাদেশে আছেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এরমধ্যে অনেকদিনই শিরোনাম হয়েছেন। বাংলাদেশে পিটার হাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায়। যা অনেকেরই পছন্দ নয়। বিশেষকরে গত দুটি বিতর্কিত নির্বাচনের কুশীলবদের।

দেড় বছরে পিটার হাসের তৎপরতা, গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যগুলোর পোস্টমর্টেম: ১৫ই মার্চ, ২০২২, ঢাকা মিশন শুরুর চার দিনের মাথায় স্টেট ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদধারী রাজনীতি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডকে স্বাগত জানান পিটার হাস। পার্টনারশিপ ডায়ালগে নেতৃত্ব দিতে এসেছিলেন তিনি। র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর এটাই ছিল ওয়াশিংটনের উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদলের প্রথম ঢাকা সফর। ওই টিমে মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লুও ছিলেন। র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনা জোর পেলেও সেই বৈঠকেই প্রথম দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: বর্ধিত সহযোগিতা ও অগ্রসর অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পিটার হাস। সেখানে মোটা দাগে ‘নিষেধাজ্ঞা’ এবং ‘নির্বাচন’ নিয়ে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান খোলাসা করেন তিনি। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত কানাঘুষা দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করেন। র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের তোড়জোড় প্রশ্নে মার্কিন দূত জানিয়েছিলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সুরাহায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কোনো অবস্থাতেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে না! তবে সেদিন তিনি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় র‌্যাবের কার্যক্রমের প্রশংসাও করেছিলেন। ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

বিশ্বের দেশে দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বাইডেন প্রশাসনের সর্বাত্মক সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকায় দেয়া প্রথম টাউন হল মিটিংয়ে রাষ্ট্রদূত নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুঙ্খানুপঙ্খভাবে তুলে ধরেছিলেন। সেদিন থেকে আজ অবধি তার বয়ান অভিন্ন। সেদিন তিনি বলেছিলেন- ‘একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই; বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারও (কোনো দল বা জোট) প্রতি আমাদের বিশেষ পছন্দ নেই। আমাদের প্রত্যাশা খুবই সাধারণ- আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিজয় চাই। যেখানে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং ভোটের ফলাফলে তাদের মতের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটবে। জনরায়েই ঠিক হবে কারা পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরিচালনা করবে।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবি করে রাষ্ট্রদূত হাস আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন, আইনটি সংশোধন এবং এর অপপ্রয়োগ বন্ধে আইনমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা তার কথায় আস্থা রাখতে চাই। নির্বাচন প্রশ্নে তার বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ছিল বরাবরই। গত দেড় বছরে ঢাকা সফরকারী মার্কিন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও প্রায় অভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং মার্কিন নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্রেরও বক্তব্যে এক ধরনের সামঞ্জস্যতা রয়েছে।

পিটার হাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল ঢাকায় সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে। সেই আলোচনায়ও তিনি খোলামেলা কথা বলেন। তার ভাষ্যটি ছিল এমন ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে কে জয়লাভ করছে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তা করে না, দেশটির সমস্ত চিন্তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে।’ সম্পাদক পরিষদের মতবিনিময়ে তিনি ‘অবাধ’ এবং ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচনে জোর দিয়েছেন। কীভাবে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ নিশ্চিত করা যাবে তাও বলেছেন।

সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির মাধ্যমে ভোটের দিনের আগে থেকেই নির্বাচন শুরু হয়- মন্তব্য করে তিনি সেদিন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। গত সেপ্টেম্বরে রাজধানীতে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘মিট দ্যা অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশে মডেল নির্বাচন দেখতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি জে. ব্লিনকেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আকাক্সক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হয় সে লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে খোলামেলাভাবেই তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রয়েছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। স্মরণ করা যায়, গত নভেম্বরে বাংলাদেশ সফরকারী মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তার আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক টেবিলে বসেছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

সে সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানানো হয়। সর্বশেষ ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতার জন্য বাংলাদেশের কোর্টে বল ঠেলে ঢাকা ছাড়েন। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে বাংলাদেশের ম্যাচিউর লিডারশিপ এটা ঠিক করতে পারবে। যদি ঠিক না করতে পারে এবং কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সহায়তা চাওয়া হয় তাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্ট্যান্ড বাই রয়েছে সেটিও খোলাসা করে গেছেন উজরা জেয়া এবং ডোনাল্ড লু। যা প্রতিধ্বনিত হয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্যে। গত সপ্তাহে     আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট কীভাবে সমাধান হবে, সেটি রাজনৈতিক দলগুলোকেই নির্ধারণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায়। সরাসরি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর দলটির মনোগ্রামের নিচে বসে সংবাদ সম্মেলনে পিটার হাস বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে অন্য দলের চেয়ে বেশি গুরুত্বও দেয় না যুক্তরাষ্ট্র।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবারই ভূমিকা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেয়। তবে এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন জনগণ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে পিটার হাসের আরেকটি বক্তব্য বেশ আলোচনায় রয়েছে। সেটি ছিল খসড়া ডেটা সুরক্ষা আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বিষয়ক বক্তৃতা। সেখানে ডেটাকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিচালনার পাশাপাশি মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকার তাগিদ দেন তিনি। সেই আলোচনায়ও তিনি বলেন, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কোনোভাবেই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ঊর্ধ্বে স্থান পেতে পারে না।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারসহ নানা ইস্যুতে নিরন্তর কাজ করা পিটার হাস অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন ‘মায়ের ডাকের’ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কর্মসূচিতে গিয়ে। গত বছরের ১৪ই ডিসেম্বরে তিনি ঢাকার শাহীনবাগে নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাকের’ সদস্যরাও ছিলেন। সেখানে পিটার হাসের অবস্থানের সময় ‘মায়ের কান্না’ নামের আরেকটি সংগঠনের লোকজন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করেন। তারা পিটার হাসের গাড়ি ঘিরে বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার কর্মসূচি শেষ করেছিলেন। পরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। বিষয়টি তখন কূটনৈতিক দুনিয়ায়ও বেশি আলোচিত হয়েছিল।
জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য যে ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে তাকে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার এক কূটনীতিক মানবজমিনকে বলেন, ভিসা নীতি ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র এতটাই বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কেউ এর বিরোধিতা করতে পারেনি। রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মনে করেন দৌড়ঝাঁপ পিটার হাস নয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার করছে। উন্নত দেশগুলো তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয়। ফলে এখানে যা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার প্রতিফলন।

সালমান এফ রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকwhatsapp sharing button

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। গতকাল দিনের শেষ ভাগে সালমান এফ রহমানের বাসায় যান পিটার হাস। প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি সেখানে অবস্থান করেন। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানা আলোচনায় সালমান এফ রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

পূর্বের খবরকরোনার নতুন ধরন শনাক্ত যুক্তরাষ্ট্রে , সংক্রমণও সবচেয়ে বেশি
পরবর্তি খবরবন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার