৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৪ বার ভূমিকম্প, কেন্দ্রস্থল রাজধানীর আশপাশ, *রাজধানীর পুরান ঢাকার অধিকাংশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ :রাজউক চেয়ারম্যান *রাজধানীর কোন ভবনগুলো কোড মেনে নির্মিত হয়েছে, কোনগুলো মেরামত দরকার, আর কোনগুলো বিপজ্জনক এখনই স্পষ্ট করা জরুরি :প্রফেসর ড. মেহেদি আহমেদ আনসারী *পুরোনো ভবনগুলোর ৯০ ভাগই বিল্ডিং কোড মেনে হয়নি, ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে মহাবিপর্যয় ঘটে *দুর্যোগ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা একেবারেই অপ্রতুল।

নিউজ ২১ ডেস্কঃ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুই দিনের ব্যবধানে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে সামনে আরও বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা। এর মধ্যে তিনটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী ও একটি ঢাকায় ছিল। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে একটি এবং শনিবার (২২ নভেম্বর) দিনের বিভিন্ন সময়ে তিনটি ভূমিকম্প হয়, যার ফলে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
ছোট ছোট ভূকম্পন আরও বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা। সে হিসাবে বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে সেটা এখন স্পষ্ট হচ্ছে। পর পর দু’দিন ভূমিকম্প হওয়া আরও বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকা ভূমিকম্পের রেড জোনে আছে। কারণ, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে ঢাকার আশপাশে।
গত ২১ নভেম্বর যে ৫দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সারাদেশ, তার উৎপত্তিস্থল ঢাকার অদূরে নরসিংদীতে। ভূমিকম্পের এই ঝাঁকুনি স্মরণকালের সর্বোচ্চ ছিল। ওই ভূমিকম্পের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই গতকাল সকালে ঢাকার অদূরে নরসিংদীর পলাশ এলাকায় মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩। এরপর সন্ধ্যায় আবার কিছুক্ষণের মধ্যে ২বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর প্রথমটি ৩ দশমিক ৭ মাত্রা এবং সামান্য সময় পরে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল। এর উৎপত্তিস্থল রাজধানীর গুলশানের বাড্ডা এলাকায়। এর আগে যে সব ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে তাদের উৎপত্তিস্থল সবই ছিল বাংলাদেশের বাইরে প্রতিবেশী কোন দেশে। তবে এবারই বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল অর্থাৎ রাজধানীর আশপাশে ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল। এটা রাজধানীর জন্য বড় বিপদ সংকেত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
শনিবার যে তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, সেগুলোকে আফটারশক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা জানিয়েছেন, এগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাসও হতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন, সাধারণত বড় ভূমিকম্পের পর এক–দুই সপ্তাহ ধরে আফটারশক হতে পারে। আজ তিনটি ছোট ও মৃদু আকারের কম্পন অনুভূত হয়েছে এসবই আফটারশক।
তিনি আরও বলেন, গতকাল যে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, সেটি ফোরশকও হতে পারে। কারণ সামনে যদি আরও বড় ভূমিকম্প হয়, তাহলে ৫.৭ কে ছোট বলেই ধরা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার বলেন, একদিনে তিনটি ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক নয় এগুলো আফটারশক। মাটির নিচে যে শক্তি আটকে ছিল, তা মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামনে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আছে। আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সকাল ১০:৩৬:১২ মিনিট-মাত্রা ৩.৩, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশ (ঢাকা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বে)। সন্ধ্যা ৬:০৬:০৪ মিনিট -মাত্রা ৩.৭, উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা।সন্ধ্যা ৬:০৬:০৫ মিনিট-মাত্রা ৪.৩, উৎপত্তিস্থল নরসিংদী।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০:৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থলও ছিল নরসিংদী। এতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভূমিকম্পগুলো সামগ্রিকভাবে দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা যেমন ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্বল অবকাঠামোর শহর এ পরিস্থিতি আরও সতর্ক থাকার দাবি জানাচ্ছে।
সতর্কতা ও প্রস্তুতির পরামর্শ:
.ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা,
.জরুরি বের হওয়ার পথ নিশ্চিত রাখা,
.প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি (প্রাথমিক চিকিৎসা, টর্চ, পানি, জরুরি নম্বর) হাতের কাছে রাখা,
.ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার অভ্যাস গড়ে তোলা।




