বিটিআরসি 5 জি সেবা নীতিমালা ৫ মাসের থাকলেও ৪ বছরেও প্রণয়ন হয়নি

97

ঢাকাঃ দেশে ফাইভজি সেবার নীতিমালা পাঁচ মাসের কথা বলা হলেও বিগত চার বছরেও করা হয়নি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ২০১৯ সালে ফাইভজি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, মোবাইল ফোনের পঞ্চম জেনারেশনের এ ইন্টারনেট সেবা ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হবে। তাই টেলিকম কোম্পানির লাইসেন্স প্রদান, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য পাঁচ মাসের সময় বেঁধে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট কমিটিকে। অথচ চার বছরেও সে কাজ শেষ করতে পারেনি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি।

No description available.ফাইভজি সেবা চালুর বিষয়ে তৈরি পথনকশায় বলা হয়, ২০২১ সালের মধ্যেই লাইসেন্স দেয়া হবে। তাছাড়া প্রথম দফায় ২০২১ সালের শুরুতে ঢাকায় ফাইভজি সেবা চালু করে ওই বছরই সব বিভাগীয় শহরে সম্প্রসারণ করা হবে। এরপর ২০২৩ সালের মধ্যে সব জেলা শহর এবং ২০২৬ সালের মধ্যে সব উপজেলা, গ্রোথ সেন্টার বা বড় হাটবাজার, বিশ্বরোড ও রেলে ফাইভজি সেবা দেয়া হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, ফাইভজি নীতিমালা তৈরির জন্য ২০১৯ সালের আগস্টে বিটিআরসির তৎকালীন স্পেকট্রাম কমিশনার হাসান মোহাম্মদ আমিনুলকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ মাসের সময় দিয়ে ফাইভজি চালুর রূপরেখা, সময় ও ব্যাপ্তি, স্পেকট্রাম ব্যান্ড ও মূল্য নির্ধারণসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবের দায়িত্ব দেয়া হয় এ কমিটিকে। পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নে অনেকগুলো সাবকমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ইউনিফায়েড লাইসেন্স ব্যবস্থা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। এজন্য ২০২২ সালের জানুয়ারিতে একটি খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। এতে সংযোজিত শর্তগুলোর ওপর মতামত চেয়ে সময় দেয়া হয় পাঁচদিন। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি ফাইভজির সেই নীতিমালা।

এ বিষয়ে সম্প্রতি মোবাইল অপারেটর, বিটিআরসি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ফাইভজি সেবার নীতিমালা তৈরি হলেও মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কাজে ধীরগতির কারণে এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। আর সে কারণে এ খাতে টেলিকম অপারেটর কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ যাবতীয় কার্যক্রম আটকে আছে।

টেলিকম অপারেটররা বলছে, ফাইভজি সেবা বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্সের অনুমোদন নিতে হবে। এরপর নীতিমালা অনুযায়ী বিনিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নির্ধারণ, কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে। কিন্তু নীতিমালা না হওয়ায় সে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি কীভাবে কী হবে তারও কোনো ধারণা নিতে পারছে না টেলিকম অপারেটরগুলো।

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় গতির ইন্টারনেট আমাদের অপারেটররা সফলতার সঙ্গে সরবরাহ করতে পারছে। ফাইভজি মূলত দরকার শিল্প-কারখানার জন্য। এছাড়া নতুন প্রযুক্তি উন্মুক্ত করার পূর্বশর্ত হিসেবে একটি পরিপূর্ণ কারিগরি প্রস্তুতি সর্বাগ্রে প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তিটির জন্য একটি ঈপ্সিত ও সুনির্দিষ্ট বাজার তৈরি করাও অপরিহার্য, যেন তা ব্যবসায়িকভাবে সফল বা টেকসই হয়। আমাদের বিশ্বাস প্রয়োজনীয় এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই সরকার এগোচ্ছে।’

জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রথমে আমরা ফাইভজি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সে পদক্ষেপ থেকে সরে আসি। কিছুদিন পর পর প্রযুক্তির নানা সংযোজন-বিয়োজন, পরিবর্তন-পরিবর্ধন আসছে। এভাবে একেক প্রযুক্তির জন্য একেকটি নীতিমালা তৈরি করা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, কার্যক্রমে গতিশীলতা থাকছে না। সেজন্য আমরা ইউনিফায়েড লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রণয়ন করছি।’

নতুন ইউনিফায়েড লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুযায়ী, সারা দেশে ছয় ধাপে ফাইভজি সেবার প্রসার হবে। প্রথম ধাপে সব বিভাগীয় শহরে, দ্বিতীয় ধাপে জেলা শহরের ২৫ শতাংশ অংশে, তৃতীয় ধাপে জেলা শহরগুলোর ৫০ শতাংশ অংশে, চতুর্থ ধাপে সারা দেশের সব জেলা শহরে, পঞ্চম ধাপে এ সেবার প্রসার হবে উপজেলা শহরগুলোয়। পঞ্চম ধাপের শর্ত পূরণের পর টেলিকম কোম্পানিগুলোকে ষষ্ঠ ধাপে সারা দেশে ফাইভজি বিস্তারের অনুমতি দেয়া হবে। এসব শর্ত পূরণে কোনো কোম্পানি ব্যর্থ হলে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা গুনতে হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে টুজির জন্য নতুন লাইসেন্স থাকার পরও থ্রিজির জন্য আবার লাইসেন্স নিতে হতো। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এক লাইসেন্সেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে টেলিকম কোম্পানিগুলো। নীতিমালাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এলে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

পূর্বের খবরঔষধ প্রশাসন হার্টের রিংয়ের খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে
পরবর্তি খবরসারাদেশে পিএইচডিধারীর সংখ্যা অর্ধ লক্ষেরও অধিক, ২০-২৪ বছর বয়সী ৭৮৩ জন