বিএনপি নির্বাচনে আসুক আওয়ামীলীগ কি চায়?

154
নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে—সেটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না—এ নিয়েও রয়েছে রাজনীতিতে নানা বিতর্ক। তবে আওয়ামী লীগ কি চায়? আওয়ামী লীগ কি সত্যি সত্যি চায় যে, বিএনপি নির্বাচনে আসুক? বিএনপির সঙ্গে একটা প্রতিদ্বন্দ্বীপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে দল জয়ী হবে সেই দল ক্ষমতা গ্রহণ করুক নাকি আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ছাড়াই একটি নির্বাচন করতে চায়—এটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং শীর্ষ নেতাদের একটি বড় অংশ মনেপ্রাণে চায় না যে, বিএনপি নির্বাচনে আসুক। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, তারা মনে করছে যে বিএনপি যেভাবে আন্দোলন করছে এই আন্দোলনে তারা সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। বাইরের প্রভাব বা হুমকি ধামকিতে শেখ হাসিনা আর যাই করুক নির্বাচন বন্ধ করবেন না। ফলে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। তারা আন্দোলনের চেষ্টা করবে কিন্তু বিএনপির আন্দোলনের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার একটি নির্বাচন করে ফেলতে পারবে। এভাবেই আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
বিএনপি ছাড়া যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে সেই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবেই। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যে যার অবস্থান থেকে একক ভাবে নির্বাচন করবে এবং নির্বাচনের যে ফলাফল হয় সেই ফলাফলে সকলে মেনে নেবে। আওয়ামী লীগের কাছে সবচেয়ে পছন্দের ফর্মুলা হলো এটি। বিএনপিকে ছাড়া একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ভাবনা ভিন্ন রকম।
আওয়ামী লীগের  তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, তারা মাঠ পর্যায়ে বিএনপি নেতাদের  কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের জনসংযোগ এবং প্রস্তুতি গুলো লক্ষ্য করছেন। তৃণমূলের নেতারা বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। এই নির্বাচনের জন্য তারা সব রকমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ করছেন, কর্মীদের একত্রিত করছেন এবং বিএনপিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাও হয় তাহলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে তদারকি করবে এবং এখানে কারচুপির সুযোগ নেই। আর যদি নির্বাচনে কারচুপি হয় সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না। সরকার বৈধতা সংকটে ভুগবে। এরকম একটি পরামর্শ কূটনৈতিক মহল থেকে প্রতিনিয়ত বিএনপিকে দেওয়া হচ্ছে। এবং বিএনপি আগের চেয়ে অনেক নমনীয়।
বিএনপি যে নমনীয় তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে মাঠে। মাঠে বিএনপির জনপ্রিয় প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কাজেই আওয়ামী লীগের যারা মনে করছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবেন না, আবার একচেটিয়া নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন বলে মাঠের আওয়ামী লীগের কর্মীরা এবং তৃণমূলের নেতারা মনে করেন। তাদের ধারণা বিএনপি শেষ মুহূর্তে চমকে দিয়ে নির্বাচনে আসবে এবং এই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বী পূর্ণ। কারণ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে জনগণের মধ্যে একটা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। যার ফলে বিএনপি একটা আলাদা সুযোগ পাবে। তাছাড়া অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সবসময় বিরোধীপক্ষরা বাড়তি সুবিধা পায়। বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে সেটা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা না, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বা নব্য নেতারা না চাইলেও মাঠের কর্মীরা তেমনটি আশা করছে।

আওয়ামী লীগের মধ্য থেকে আরেকটি মতামতও শোনা যাচ্ছে। তা হলো বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গন হবে এবং বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনে যাবে। বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন, বিএনপি যেহেতু নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উপস্থাপন করেছে কাজেই এখান থেকে তাদের সরে আসার কোনো সুযোগ নাই। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করা মানেই বিএনপির পরাজয় নিশ্চিত। নির্বাচন যত অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ হোক না কেন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আছেন এতে জনগণ অন্য কোন দিকে চিন্তা করবে না। আর এ কারণেই বিএনপির মধ্যে একটি অংশ প্রচন্ড নির্বাচন বিরোধী। আবার অন্য একটি অংশ নির্বাচনের পক্ষে। এদেরকে নানাভাবে সরকার টোপ দিতে পারে এবং নানাভাবে তাদেরকে প্ররোচিত করতে পারে। সে আর সেক্ষেত্রে উকিল আব্দুস সাত্তার মডেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সেই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। এই তিন পদ্ধতির মধ্যে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি। তবে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই চান যে, বিএনপি নির্বাচন বয়কট করুক কিংবা আংশিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। খুব কম নেতাই চান বিএনপির অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
পূর্বের খবরবিএনপির নেতা কর্মীদের দেড় লাখ মামলায় প্রায় ৫০লাখ আসামি
পরবর্তি খবরদেশে আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৬ জন