বিএনপি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাল, সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি

119
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের জনগণ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রত্যাখান করেছে করেছে দাবি করে তাদের অভিনন্দন জানাল বিএনপি। আজ রবিবার রাতে বিএনপির পক্ষে পাঠানো এক বিবৃতিতে জনগণকে এ অভিনন্দন জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি।

বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে অবৈধ সরকারের তোড়জোড়ে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো শুরু থেকেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে কার্যকর আন্দোলন চালিয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘জনসমর্থনে বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী দলগুলোর আন্দোলন অব্যাহত থাকলেও শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্রে নিজের ‘‘সেটআপে’’ জাতীয় নির্বাচন সম্পাদন করতে অনঢ় থাকেন। ফলশ্রুতিতে আন্দোলনরত অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা ও দাবিকে অগ্রাহ্য করে তামাশার নির্বাচন করতে উঠেপড়ে লাগে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো শেখ হাসিনার একতরফা নির্বাচন বর্জনের ডাক দেয়। নেমে আসে স্বৈরাচারী সরকারের জুলুম-নিপীড়ন-নির্যাতন, বন্দী করা হয় বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে। তবে বিরোধীদলগুলোর ডাকে সাড়া দিয়ে সংহতি জানায় সংগ্রামী জনগণ। ফলে আজকের জালিয়াতির নির্বাচন দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখান করে জনগণ এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয় নিশ্চিত হয়।’

বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকের জালিয়াতির নির্বাচনে যেটি উন্মোচিত হয়েছে তা হলো বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনাকে সম্পূর্ণরুপে অপমান করা। নির্বাচন বলে দাবি করে শাসকদল আত্মশ্লাঘা লাভ করলেও ভোটকেন্দ্রের চরম অনিয়ম ও সহিংসতা ঢাকতে পারেনি তারা। এগুলো স্পষ্ট হয়েছে যারা সরকারের গোপন আশীর্বাদ পায়নি সেসব প্রার্থীদের জালিয়াতির অভিযোগে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের হিড়িকে।’

তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ছবি ও ভিডিওতে নজিরবিহীন ভোট কেলেঙ্কারির খবর প্রতি মুহূর্তে প্রকাশ পেয়েছে। ঢাকার বাইরেও জনশূন্য কেন্দ্রে ভোটারদের নিয়ে আসতে পারেনি সরকার, নির্বাচন কমিশন ও দলীয় ক্যাডারদের নানা কারসাজি, হুমকি ও কাকুতি-মিনতি সত্বেও।’

বিবৃতিতে রিজভী বলেন, ‘বিএনপিসহ ৬৩টি গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করা সত্বেও দেশের প্রতিটি আসন ও কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ যেভাবে সংঘবদ্ধভাবে কারচুপি ও সংঘাত করেছে, একের পর এক যেসব ছবি, ভিডিও ও তথ্য আমরা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেয়েছি তাতে এটিই পুনঃপ্রমাণিত, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান স্বাধীন ও দৃঢ় না হলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতি সাধিত হয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তার প্রমাণ। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের তল্পিবাহক হওয়ায় তারা নির্বাচনের নামে ছিনিমিনি খেলেছে। সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটকেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া আর কাউকে দেখেননি। অথচ আরেকজন নির্বাচন কমিশনার বললেন ৫১ শতাংশ ভোট পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ভোট গ্রহণ শুরু থেকে কয়েক ঘণ্টা পর নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয় ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। পুলিশ প্রধান বলেছেন, ‘‘যথেষ্ট ভোটার উপস্থিতির সংবাদ পাচ্ছি।’’ এসব বক্তব্য আগাম প্রস্তুতি বলে মনে হয়, এগুলো নির্বাচন শেষে বেশি ভোট ঘোষণা করার পটভূমি।’

রিজভী বলেন, ‘সব স্বৈরাচারের রীতিই হলো জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত ভোটে ভোটার বেশি দেখানো। গণবিরোধী সরকারের পারিষদবর্গ ও আজ্ঞাবাহী রাষ্ট্রযন্ত্রের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে দেশের ১২ কোটি ভোটারের প্রায় সবাই একযোগে এই প্রহসনমূলক নির্বাচনকে বর্জন করেছেন। বাংলাদেশের জনগণের এই বীরোচিত অবস্থান মূলতঃ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি সমূহের চলমান সংগ্রামের প্রতি স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য গণদাবির সুদৃঢ় প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধভাবে ও সাহসিকতার সঙ্গে যেভাবে ডামি নির্বাচনকে প্রত্যাখান করেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তার জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।’

 সোমবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি

Image not found

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। রবিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আজ ৮ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন জনগণ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রত্যাখ্যান করেছে। রবিবার রাতে বিএনপির পক্ষে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।

পূর্বের খবর‘এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও দক্ষিণ এশিয়ার স্ট্যান্ডার্ডে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না’: আলী ইমাম মজুমদার
পরবর্তি খবরদ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম দলের প্রতিনিধিত্ব ও সর্বাধিক স্বতন্ত্রের রেকর্ড