বিএনপির মহাসমাবেশ বনাম আঃ লীগের শান্তি সমাবেশ: শনিবারের আগেই আতঙ্ক

94

ঢাকাঃ বিএনপির মহাসমাবেশ ও আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশের আগেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷ বিশেষ করে নেতাদের কথা আর পুলিশি তৎপরতায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বেশি৷ আর আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই মাঠে নেমে গেছে৷

যদিও সমাবেশ আরো একদিন পর শনিবার৷ বিএনপির  তৃণমূলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী সমাবেশে অংশ নিতে এরই মধ্যে ঢাকা চলে এসেছেন৷

এখন সংকট চলছে বিএনপির সমাবেশের জায়গা নিয়ে৷ বিএনপি নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশের সব প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ কিন্তু পুলিশ তাদের সেখানে সমাবেশ করতে দিতে চায় না৷ বিকল্প জায়গার প্রস্তাব চেয়ে পুলিশ বিএনপিকে চিঠি দিয়েছে৷ কিন্তু বিএনপি জবাবে নয়া পল্টনেই সমাবেশ করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে৷  পুলিশ আওয়ামী লীগকেও চিঠি দিয়েছে বিকল্প জায়গা জানতে৷ তারা এখনো জবাব দেয়নি৷ আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করতে চায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে৷ জানা গেছে, বিএনপির অবস্থান বুঝে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে৷

আশঙ্কা করা হচ্ছে সমাবেশের আগে মূল জটিলতা হবে বিএনপির নয়া পল্টন নিয়ে৷ বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি এবার গত ডিসেম্বরের মতো ছাড় দেবে না৷ তারা নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড়৷ বড় জোর শেষ পর্যন্ত তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে পারেন৷ শহরের আশপাশ যেমন, গোলাপবাগ মাঠ- এধরনের জায়গায় তারা সমাবেশ করবে না৷ পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তারা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন৷ এমনও হতে পারে তারা শেষ পর্যন্ত কোনো দলকেই সমাবেশের অনুমতি নাও দিতে পারেন তারা৷

পুলিশ  ঢাকায় বিএbপি নেতা কর্মীদের  বিরুদ্ধে আটক অভিযান অব্যাহত রেখেছে৷ বুধবার রাতে তারা বিএনপির ২৭ জনকে আটক করেছে৷ গত এক সপ্তাহে পুলিশ সারাদেশ থেকে বিএনপির তিন হাজার ৬২০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ৷ মামলা করা হয়েছে  ৪০০৷ ঢাকায় বিএনপির একাধিক নেতার বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ৷

এদিকে মহাসড়ক এবং ঢাকার প্রবেশ পথে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে৷ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অংশে বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়৷ বিকেলের দিকে পোস্তোগোলা এলাকায়  র‌্যাব অভিযান চালায় বলে জানা গেছে৷ তাদের এই তল্লাশি অভিযান সমাবেশের দিন পর্যন্ত চলবে৷ র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক  কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, “সমাবেশের সময় যাতে  নাশকতার জন্য কেউ কোনো অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন করতে না পারে সেজন্য ২৮ অক্টোবর ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসাবে র‌্যাব৷”

‘ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের  যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান,”আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দুই দলকেই তাদের সমাবেশের জায়গা পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছি৷ তবে বিএনপি নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছে৷ তারা বলেছে, তাদের যথেষ্ট পরিমাণ স্বেচ্ছসেবক থাকবে, তারা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে৷ আওয়ামী লীগ এখনো কিছু জানায়নি৷ দুই দলের সঙ্গেই আমাদের আলাপ আলোচনা চলছে৷ আমরা তো কারুর শত্রু না৷ আমরা একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই৷ তবে এখন পর্যন্ত কোনো দলকেই আমরা সমাবেশের অনুমতি দেইনি৷”

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন,” আমরা ফুল প্রুফ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি৷ শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ হতে পারে এমন কোনো পরিস্থিতি আমরা সৃষ্টি হতে দেব না৷”

বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযানের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন,”আমরা রাজনৈতিক কারণে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করছি না৷”

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, “আমরা নয়াপল্টনেই সমাবেশ করব৷ এর আগেও আমরা এখানে সমাবেশ করেছি৷ কখনোই শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়নি৷ শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সমাবেশ হয়েছে৷ এবারো হবে৷”

তিনি বলেন,”ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে৷ জেলা উপজেলায় নেতা-কর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না৷ তাই তারা আগেই ঢাকা চলে এসেছেন৷ এখন পুলিশের ভয়ে ঢাকায় আত্মীয় স্বজনের বাসায়ও থাকতে পারছেন না ৷ তবে এইসব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আমরা সফল সমাবেশ করব৷”

তৃণমূলে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ২৮ সেপ্টেম্বর সমাবেশে অংশ নেয়ার নির্দেশনাই আছে৷ এরপর কী কর্মসূচি হতে পারে তা জানানো হয়নি৷ নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল এবং জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের কথা রয়েছে৷ বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না৷ তারা চায় বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন৷ আর  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অনড় আছে৷

বিএনপির মহাসমাবেশকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে আওয়ামী লীগ৷ তারা মনে করে সমাবেশের পরই বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঢাকায় অবস্থান নিতে পারে৷ টানা কর্মসূচিতে চলে যেতে পারে৷ এজন্য তারা আগেই মাঠ দখলে রাখার কাজ শুরু করেছে৷  বৃহস্পতিবার বিকেলে দলটি ঢাকার  বিভিন্ন ওয়ার্ডে শান্তি সমাবেশ করেছে৷ তাদের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাঠেই থাকতে বলা হয়েছে৷ শুক্রবার থেকে ঢাকার  গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অবস্থান নেয়ার কথা রয়েছে৷ তারা সমাবেশের দিন পর্যন্ত এই অবস্থান ধরে রাখবেন৷ আর বায়তুল মোকররম দক্ষিণ গেটের সমাবেশেও ব্যাপক নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানান, কোনো কারণে পুলিশ কোনো দলকেই ঢাকায় সমাবেশ করার অনুমতি না দিলে সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা যাতে অবস্থান নিতে না পারে তার প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছেন৷ তাদের পরিকল্পনা হলো যেকোনো উপায়ে ঢাকা শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা৷

এদিকে ঢাকার ওয়ার্ডগুলোতে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও কাজ করছেন৷ তারা পুলিশকে বিরোধী নেতা-কর্মীদের ব্যাপারে তথ্য দিচ্ছেন৷ এলাকায় নতুন এবং অপরিচিত মুখ দেখলে পুলিশকে খবর দিচ্ছেন৷

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন জানান, “আজ ( বৃহস্পতিবার) থেকেই আমাদের নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমে গেছেন৷ ২৮ তারিখ শান্তি সমাবেশ করে তারা ঘরে ফিরবেন৷ আমরা কোনোভাবেই অশান্তি সৃষ্টি করতে দেব না৷ বিএনপি বলেছে তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে৷ তাহলে তো ভালো৷ কিন্তু তারা যদি নাশকতা করে তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তাদের প্রতিরোধ করব৷”

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য আমাদের শান্তি সমাবেশের জায়গা পরিবর্তনের অনুরোধ করেছে৷ আমরা সেটা বিবেচনা করব৷ তবে বিএনপি যদি নয়াপল্টনে সমাবেশ করে তাহলে আমরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটেই শান্তি সমাবেশ করব৷”

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকেরাও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ২৮ অক্টোবর সমাবেশ করবে৷ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশের ঘোষণা দিলেও পুলিশ তাদের কোনো সমাবেশেরই অনুমতি দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে৷

সবমিলিয়ে ঢাকায় মানুষের মধ্যে ২৮ অক্টোবরের সমাবেশের আগেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷ বৃহস্পতিবার ঢাকায় যানবাহন চলাচল ছিলো স্বাভাবিকের চেয়ে কম৷ রাস্তায় মানুষজন কম দেখা গেছে৷

পূর্বের খবরযুগের পর যুগ যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করছে ইসরায়েলকে বাঁচাতে
পরবর্তি খবরবঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা