‘বাংলাদেশ আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্বে ১০তম অবস্থানে’

92

নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় পর্যায়ে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১১ সালে আত্মহত্যার গড় হারে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বে ৩৮তম। কিন্তু মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ১০তম স্থানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্রের তথ্য মতে, বাংলাদেশে এটি ৩৯.৬ শতাংশ, অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি। তার মানে দেশে আত্মহত্যার ঘটনা দিনদিন বেড়ে চলেছে।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা, মাদকনির্ভরশীল ব্যক্তি এবং আত্মহত্যার উচ্চঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন। শনিবার সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেবা সেক্টরের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস মজুমদার,  কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রের মনোচিকিৎসক বিশেষজ্ঞ ডা. রাহেনুল ইসলাম, সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলি। ১০ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করো’।

ঢাকা আহছানিয়া মিশন ২০২১ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসা নারীদের তথ্য সংগ্রহে কাজ করেছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেবাগ্রহণকারী নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ৩২২ জন সেবা গ্রহণকারী নারীর মধ্যে ১৭৭ জনের আত্মহত্যার ভাবনা ছিল। ৯৮ জন কখনো না কখনো আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এবং পাঁচ জন চিকিৎসা নেওয়ার পরও আত্মহত্যায় জীবনের সমাপ্তি টেনেছেন। ১৭৭ জন আত্মহত্যাপ্রবণ রোগীদের মধ্যে ১২২ জন মাদকাসক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৬৩ জনের বয়স ১৫-২৯ বছরের মধ্যে। ৭৪ জন আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির অন্তত একটি মানসিক রোগ ছিল।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আত্মহত্যা একটি জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে জাতীয় পর্যায়ে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ি, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩২ জন মানুষ আত্মহত্যা করে থাকেন। করোনার সময় ১৪ হাজার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং ২০২২ সালে ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার কারণগুলো হচ্ছে- শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন, শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থতা, পারিবারিক কলহ এবং সম্পর্কের বিচ্ছেদ, মাদকের ব্যবহার, অর্থনৈতিক সমস্যা, পড়াশোনার চাপ, বেকারত্ব, পারিবারিক আত্মহত্যার ইতিহাস ইত্যাদি।

আত্মহত্যার ঝুঁকির লক্ষণগুলো হচ্ছে- মৌখিক হুমকি, ঘন ঘন মৃত্যু সংক্রান্ত ইচ্ছার কথা বলা, যখন দেখছেন আপনার সন্তান বা কাছের মানুষটি হঠাৎ করেই চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে, তার চেহারা, স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীন বা ওজন খুব দ্রুত বাড়ছে বা কমছে, ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়াতে মৃত্যু নিয়ে বেশি পোস্ট বা ঘটনা দিচ্ছে, শরীরে অপ্রত্যাশিত আঘাতের চিহ্ন ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রের মনোচিকিৎসক বিশেষজ্ঞ ডা. রাহেনুল ইসলাম বলেন, সহানুভূতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আত্মহত্যা করায় কোনো ব্যক্তির নিজের আগ্রহকে যতটা সহজ করে তুলে ধরি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, প্রভাব ও অন্যান্য কারণ বিবেচনা কমই করি।

তিনি বলেন, আত্মহত্যা হিরোইজমের ব্যাপার নয়, এটা প্রতিরোধ যোগ্য। চোখ যা দেখে না, মন তা দেখে ও বোঝে। আমাদের বুঝতে হবে। আর মাদককে বৈধতা দিলেই মাদক বৈধ হয়ে যায় না। অথচ আত্মহত্যার নেপথ্যে বড় একটি কারণ মাদকাসক্তি।

পূর্বের খবরউত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ,সামনে আসছে নানা কর্মসূচি
পরবর্তি খবরভয়ংকর সাকার ফিশ খুলতে পারে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার