বসুন্ধরা একটি বেআইনি ও অবৈধ আবাসন প্রকল্প

68
ঢাকাঃ বসুন্ধরা গ্রুপের আবাসন ব্যবসার মূল ভিত্তিই গড়ে উঠেছে জলাশয় ভরাট, নদী দখল এবং রাজউকের অনুমোদনহীন সম্প্রসারণের মাধ্যমে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের তদন্ত ও মামলা সূত্রে এই গ্রুপের বেশ কয়েকটি মেগা প্রজেক্ট বা আবাসন প্রকল্পকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অবৈধ ও বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ঢাকার সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প হলেও এর একটি বড় অংশই বেআইনি।
রাজউক থেকে শুরুতে এই প্রকল্পের মাত্র কয়েকটি ব্লকের (যেমন- এ, বি, সি) সীমিত জায়গার অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজউকের কোনো তোয়াক্কা না করে আই, জে, কে, এল, এম, এন, পি থেকে শুরু করে একের পর এক ব্লক তৈরি করা হয়েছে, যার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।
ঢাকা মহানগরীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বর্ধিত অংশগুলোর একটি বড় অংশ ছিল ‘বন্যা প্রবাহ অঞ্চল’ এবং জলাভূমি, যেখানে যেকোনো ধরনের আবাসন বা ভরাট কাজ আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে তৈরি করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের বিস্তীর্ণ নিচু জমি, চক এবং প্লাবনভূমি জোরপূর্বক বালু দিয়ে ভরাট করে এই প্রকল্প করা হয়েছে। রাজউকের অনুমোদন ছাড়া এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই এই আবাসন প্রকল্পের প্লট বিক্রি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কারণে ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
রিভারভিউ প্রকল্পের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে বসুন্ধরা রিভারভিউ গ্রীন টাউন ও দক্ষিণারঞ্জন এই প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়। এগুলোও সম্পূর্ণ রাজউকের লে আউট প্ল্যানের বাইরে এবং অনুমোদনহীনভাবে সাধারণ মানুষের কৃষিজমি ও খাস জমি দখল করে বালু ভরাট করা হয়েছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে আন্তর্জাতিক মানের যে বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স বা খেলার মাঠ তৈরি করা হয়েছে, সেটি নিয়েও বড় ধরনের আইনি ও পরিবেশগত বিতর্ক রয়েছে।
ড্যাপের মূল নকশায় যে বিশাল এলাকাটি ঢাকার পূর্ব অঞ্চলের প্রধান পানি নিষ্কাশন বিল হিসেবে সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ ছিল, সেই জলাশয়টি রাষ্ট্রে ক্ষমতার দাপটে বালু দিয়ে ভরাট করে এই স্পোর্টস কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খিলক্ষেত, কুড়িল এবং বাড্ডা এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এবং দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার নামে তারা বেআইনিভাবে সরকারি খাস জমি এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেটে ও ভরাট করে কারখানা গড়ে তুলেছে, যার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে জরিমানা ও নোটিশ করেছিল।
বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান কৌশল ছিল তারা রাজউকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করত না। রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে মাইলের পর মাইল নিচু জমি ও জলাশয় ভরাট করে প্লটের সীমানা দিয়ে দিত। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাজউককে বাধ্য করত সেই অবৈধ প্রকল্পকে বৈধতা দিতে।
রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ব্রোশিয়ার বা লিফলেট তৈরি করে এবং দৃষ্টিনন্দন ডিজিটাল নকশা দেখিয়ে হাজার হাজার সাধারণ গ্রাহকের কাছে কোটি কোটি টাকার প্লট বিক্রি করেছে, যা আইনগতভাবে বড় ধরনের প্রতারণা।
এই প্রকল্পগুলোর সীমানার ভেতরে কোনো সাধারণ মানুষের পৈতৃক ভিটা বা তিন ফসলি জমি থাকলে, মাস্তান বাহিনী দিয়ে বা চারপাশে বালু ফেলে অবরুদ্ধ করে নামমাত্র মূল্যে সেই জমি লিখে নিতে বাধ্য করা হতো।
আইনজীবী এবং পরিবেশবাদীদের মতে, রাজউকের মূল মাস্টারপ্ল্যান এবং দেশের জলাশয় সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিচার করলে বসুন্ধরা গ্রুপের আবাসন প্রকল্পের সিংহভাগই সম্পূর্ণ অবৈধ এবং উচ্ছেদযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।
পূর্বের খবরজাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের কী লাভ