পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার পর দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

89

ঢাকাঃ সারাদেশে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে বৃহস্পতিবারও পুলিশের সাথে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার পর বৃহস্পতিবারও পুলিশের সঙ্গে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে৷ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে৷ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ মজুরি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি৷

সরকারের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার অনেক শ্রমিক৷ বৃহস্পতিবার গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিভিন্ন কারখানার আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নেমে পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়ে এবং ভাংচুর চালায়৷

গাজীপুরের উপ পুলিশ কমিশনার অশক কুমার পাল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ঘোষিত মজুরি প্রত্যাখ্যান করে বৃহস্পতিবার এক হাজারের বেশি শ্রমিক গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করেন৷ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে বলে জানান তিনি৷

অন্যদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশের উপ-প্রধান মাহমুদ নাসের জানিয়েছেন, ‘‘১০ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন৷ তারা পুলিশ ও খুলে দেয়া কারখানাগুলো লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়েন৷ আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছি৷” বিক্ষোভের কারণে আশুলিয়া ও তার আশেপাশে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি৷

একজন আন্দোলনকারী রয়টার্সকে বলেন, ‘‘নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে৷ আমরা কিভাবে চলবো? আমরা শুধু ন্যায্য বেতন দাবি করছি৷ আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরব না৷”

বেতন বাড়ানোর দাবিতে ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করে আসছিলেন শ্রমিকেরা৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক শিল্পমালিকেরা শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম সাড়ে ১২ হাজার টাকার যে মজুরি প্রস্তাব করেছে সেটিকেই চূড়ান্ত করেছে সরকার৷ মঙ্গলবার সচিবালয়ে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি ঘোষণা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান৷

কিন্তু এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি শ্রমিকেরা৷ মঙ্গলবার বিকাল থেকে অসন্তোষ দেখানোর পর, বুধবার সকাল থেকেও দফায় দফায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা৷ মহাসড়কে অবস্থান নেয় শ্রমিকেরা৷

ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, জরুন, বাইমাইলসহ বিভিন্ন এলাকাতেও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা৷ কোনাবাড়িতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আঞ্জুয়ারা খাতুন নামের এক নারী পোশাকশ্রমিক মারা গেছেন৷

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে৷ গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷

বৃহস্পতিবার গাজীপুরে আন্দোলনরত এক শ্রমিককে আটক করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বৃহস্পতিবার গাজীপুরে আন্দোলনরত এক শ্রমিককে আটক করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে, শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রক্ষা ও শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ তদন্তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷

এছাড়াও ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়৷ শ্রমিক ও তাদের পরিবার যাতে ক্রমবর্ধিষ্ণু অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে পারে সেজন্য ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন মজুরি  নির্ধারণে জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ এক পৃথক বিবৃতি দিয়ে একই আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন শ্রম দপ্তরের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি থিয়া লি৷

এমকে/এফএস (রয়টার্স, এএফপি)

পূর্বের খবরনির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা দিলেই কি নির্বাচন নিশ্চিত?
পরবর্তি খবরই-কমার্স খাতে অবদানের জন্য ই-ক্যাবের ‘ইকমা’ পুরস্কার পেল ৩৪ প্রতিষ্ঠান