দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি ‘বিলুপ্ত’ হওয়ার সংশয়

84

ঢাকাঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, “দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতি আর থাকবে না। উদার গণতন্ত্রকে ভুলে যেতে হবে।”

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

‘ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ—নির্বাচন, অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কেউ কেউ বলতে চান, জনগণ অংশগ্রহণ করলেই এটি অংশগ্রহণমূলক। তাহলে আমরা কেন স্বৈরশাসকদের প্রশ্ন করছি? অংশগ্রহণমূলক মানে সেই সব দলের অংশগ্রহণ, যারা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।”

ঢাকায় এক আলোচনা সভায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩।
ঢাকায় এক আলোচনা সভায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। 

তিনি বলেন, “যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা সিস্টেমকে কলুষিত করেছে, যেখানে ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, সেখানে ১৫ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। ভোটের হার বিশ্বাসযোগ্য হোক বা না হোক, তা কোনো ব্যাপার নয়।”

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়বে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘বিরোধী দল খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া’ আখ্যায়িত করে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২৬টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তাদের মধ্যে ১৩টির নাম কেউ বলতে পারছে না।

এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ‘নতুন সংজ্ঞা’ তৈরি হচ্ছে।

ইংরেজি পত্রিকা নিউ এইজের সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, আগামী নির্বাচনে সরকারি দলের পরাজয়ের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। গত ৫২ বছরে এই পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। অসাধু ব্যবসায়ী, অসাধু রাজনীতিবিদ ও আমলারা একটি চক্র গঠন করেছে। এই চক্র ভেঙ্গে না দিয়ে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই।”

নুরুল কবির মনে করেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরকার একদলীয় নির্বাচন করতে যাচ্ছে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের ফলাফল তার আবেদন হারিয়েছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিরোধী দল ক্ষমতাসীন দলের সহায়তা ছাড়া নির্বাচিত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”

তিনি আশঙ্কা করেন, শক্তিশালী রাজনৈতিক বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে মৌলবাদী শক্তির উত্থান হতে পারে।

পূর্বের খবরসন্দেহভাজনদের ‘অ্যালার্ট লিস্ট’ তৈরির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
পরবর্তি খবরবিএনপিতেই অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে বিস্ময়