তারেক রহমানের উপর বিদেশী গণমাধ্যমের নজর বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

358

সাবেরা শর্মীন হক ঃ বিশ্ব গণমাধ্যমে, বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানকে সম্ভাব্য বা “ভাবি” প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া—বিশেষত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম—বেশ ইতিবাচকভাবেই উপস্থাপন করছে। এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের কারণে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির প্রতি ভারতের একটি নীরব বা মৌন সমর্থন ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।

রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই ধারণাকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল—এটি শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, বরং জনমতের প্রতিফলন। আর এই জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানের পর তার দেশে প্রত্যাবর্তনের দিনেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে—জনস্রোত, গণমানুষের আবেগ, রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি ও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে তার অবস্থান—সব মিলিয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তির দেশে ফেরা নয়; এটি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি, আশাবাদ ও পুনর্গঠনের প্রতীক। সাধারণ মানুষ এই প্রত্যাবর্তনকে পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে—বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের গণমাধ্যমে—এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে তারেক রহমান ও বিএনপিকে একটি বাস্তব ও কার্যকর শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, তারেক রহমানের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এখন কেবল দেশীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন, আসন্ন সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি গণমাধ্যমে, বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister-in-waiting) হিসেবে উল্লেখ করার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তাঁর দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনকে অনেক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যম ইতিবাচক রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই কাভারেজ কেবল ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, তাতে অনেকের ধারণা—বিএনপির প্রতি ভারতের একটি নীরব বা মৌন কূটনৈতিক সমর্থন ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের দিনেই। সেদিন জনস্রোত, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অনেকের কাছেই প্রমাণ করে দেয় যে, বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, এবং তারেক রহমান এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। এই জনপ্রিয়তা শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর শীর্ষ সংবাদ ও কাভার পেজে স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন টিভি নিউজ বুলেটিনে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে গুরুত্বের সঙ্গে।

অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষণে এমন একটি বার্তাই যেন স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে,
তারেক রহমানকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই বিশ্ব গণমাধ্যম বিবেচনা করছে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে দেখা হচ্ছে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা বদলে দিতে পারে।

 

লেখক: রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, উদ্যোক্তা, কুমোনিস্ট। চেয়ারম্যান দ্য ডেইলি বাংলাদেশ ভিউজ, প্রধান উপদেষ্টা 36TV, সহ-সভাপতি টেগোর ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

পূর্বের খবরতারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অভূতপূর্ব এক বিরল দৃশ্য
পরবর্তি খবরA son’s long-awaited return: Tarique pays homage to Zia with emotion, tears