তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনের চেষ্টা করবেন না— মির্জা ফখরুল

119

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতিথি হিসেবে তার বক্তব্য বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে সেটি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ শুধু আমরা নই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলছে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত আগের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু হয়নি।এবারও সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে তারা মেনে নেবে না”।

বুধবার (১৬ অগাস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করব এবং সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে বাধ্য করব।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আপনারা জানেন। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী ও তাদের সন্তানেরা চাকরি পায় না। আজ তারেক রহমানকে সরকার ভয় পায়। তিনি আজ গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন”।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে (খালেদা জিয়া) অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় এ দেশের মানুষ জেগে উঠেছে, তারা বিশাল সমাবেশ করছে”।

মির্জা ফখরুল বলেন, “ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে তারা (জনগণ) আপনাকে বলেছে, আপনি আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না”।

সভায় বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, সহসভাপতি নুর করিম, আল মামুন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে—সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্র আছে বলেই উন্নয়নের মুখ দেখছে বাংলাদেশ। বিএনপি এটার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “সংবিধানের কাটাছেঁড়া বা সংশোধনী করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, পার্লামেন্ট বিলুপ্তি, শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ বিএনপির কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, মন চাইলে নির্বাচনে আসবেন, না হয় যা মন চায় তা করেন”।

শনিবার (১২ অগাস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে প্রতিপক্ষ ভাবে, আর তারা আওয়ামী লীগকে শত্রু ভাবে। সেটার যাত্রা শুরু করেছিল ২১ অগাস্ট। ১৫ অগাস্ট কিংবা ২১ অগাস্টসহ সব হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড জিয়া পরিবারের সদস্যরা।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে তাদের কী দশা হবে। এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে এ দেশের ৭০ ভাগ ভোট শেখ হাসিনা পাবেন।

যেকোনো সংকট কিংবা সমস্যায় শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখতে সারা দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

পূর্বের খবরনির্বাচন কমিশনের অফিস সহায়ক পদে চুক্তিতে পরীক্ষা না দিয়েই পাস ১৪ প্রার্থী!
পরবর্তি খবরবাংলাদেশের পটভূমিতে বঙ্গোপসাগরের সামরিক গুরুত্ব আসলে কতটা রাখে?