ট্রাম্প নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছেন নাঃ যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত

51

ঢাকাঃ বিগত ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর এর ফল পরিবর্তনের চক্রান্তের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছেন না ডনাল্ড ট্রাম্প, মঙ্গলবার একটি ফেডারেল আপিল আদালত রায় দিয়েছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট নজিরবিহীন ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এসব অভিযোগে তার বিচার করা সম্ভব নয় কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের তিন বিচারকের একটি প্যানেল ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করেছে।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তাকে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের জন্য ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করা যাবে না, যদি না এর আগে সেই একই পদক্ষেপের জন্য তাকে প্রথমে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এ অভিশংসন করা না হয় এবং পরবর্তীতে সিনেটের মাধ্যমে তাকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে অপসারণ না করা হয়।

হাউস ট্রাম্পকে দুইবার অভিশংসন করলেও উভয় ক্ষেত্রেই সিনেটের রিপাবলিকানরা যথেষ্ট পরিমাণ ভোট দিয়ে তাকে অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বারবার দায়মুক্তির দাবি জানিয়ে এসেছেন এবং ১৮ জানুয়ারি এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “সকল প্রেসিডেন্টের পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রেসিডেন্সিয়াল দায়মুক্তি থাকা উচিত। এটা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ক্ষয় হবে এবং এই ক্ষমতা চিরতরে চলে যাবে”।

স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটার জালিয়াতির মিথ্যে দাবি এনে অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও তৎকালীন ভাইস-প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ দিয়ে নির্বাচনের ফলের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া বানচালের পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে চারটি ফউজদারি মামলা করা হয়েছে, তার মধ্যে দুটোতে ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আছে।

চারটি ফৌজদারি অভিযোগে ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং বাদী পক্ষের আইনজীবীদের প্রতি অভিযোগ তুলে বলেছেন তার নির্বাচনী প্রচারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক স্বার্থজড়িত উদ্যোগ।

ট্রাম্প নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনি নিজেকে নিজেই ক্ষমা করে দিতে পারেন অথবা বিচার বিভাগকে এই মামলা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

পূর্বের খবররাজশাহীর তেরখাদিয়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় সাংবাদিকের বাড়ি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
পরবর্তি খবরপ্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে জানালেন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি