ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ‘চাপ দিচ্ছেন’ সৌদি যুবরাজ

127

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ডি-ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান এটিকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে ‘চাপ দিচ্ছেন’ সৌদি যুবরাজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ। এসব আলোচনায় তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে তুলে ধরে, কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
এমনকি তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।দুই শাসকের আলোচনা সম্পর্কে জ্ঞাত কয়েকজনের ভাষ্য যুবরাজ মোহাম্মদ নাকি ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরানের কট্টরপন্থী সরকারকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তার যুক্তি, উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি; যা কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে এমন একটি পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য, যেখানে ইরান অভ্যন্তরীণ সংকটে জড়িয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন; তাদের আশঙ্কা, ইরান যদি সম্পূর্ণভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।ইতোমধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব-পাল্টা জবাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে সৌদি সরকার। তাদের দাবি, দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, সংঘাত শুরুর আগেই সৌদি আরব সবসময় এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সমর্থন করে এসেছে।

বর্তমানে আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো আমাদের জনগণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর চলমান দৈনিক হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করা। ইরান গঠনমূলক কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে বিপজ্জনক উত্তেজনার পথ বেছে নিয়েছে।সৌদি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অবস্থান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরান নিজেই।

অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান প্রকাশ্যে কিছুটা দোদুল্যমান। কখনও তিনি দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আবার কখনও সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান’ নিয়ে অগ্রগতি রয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।  সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

 

খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনার পরই ইরান অভিযানে ট্রাম্পের অনুমোদন: রয়টার্সের প্রতিবেদন

খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনার পরই ইরান অভিযানে ট্রাম্পের অনুমোদন: রয়টার্সের প্রতিবেদন
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই জটিল ও দূরপাল্লার যুদ্ধ শুরু করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু দুজনই সপ্তাহের শুরুতে গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে জানতেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার প্রধান সহযোগীরা তেহরানে তার কমপ্লেক্সে শীঘ্রই মিলিত হবেন। এতে তারা ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকবেন—এ ধরনের হামলা ইসরায়েল প্রায়ই চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহার করে।

তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকের সময় শনিবার রাত থেকে এগিয়ে শনিবার সকালে আনা হয় বলে জানা যায়। এই ফোনালাপের বিষয়টি আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি অভিযানের পক্ষে থাকা নেতানিয়াহু যুক্তি দেন—খামেনিকে হত্যার জন্য এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর নাও আসতে পারে। পাশাপাশি তিনি ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের আগের হত্যাচেষ্টার প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ট্রাম্প প্রার্থী থাকাকালে তাকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ এক পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে লোকজন নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে।

ফোনালাপের সময় পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ধারণায় অনুমোদন দিলেও, কখন বা কোন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে, তা চূড়ান্ত করেননি বলে সূত্রগুলো জানায়।

এরই মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে উপস্থিতি জোরদার করছিল, যা প্রশাসনের অনেকের কাছে ইঙ্গিত দেয়—শুধু সময়ের অপেক্ষা, কখন প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একটি সম্ভাব্য তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি, নেতানিয়াহুর যুক্তি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলেছিল। তবে ফোনালাপটি ছিল ট্রাম্পকে রাজি করানোর শেষ প্রচেষ্টা। সূত্রগুলো মনে করে, এই আলোচনা এবং খামেনিকে হত্যার সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসার গোয়েন্দা তথ্য—দুটিই ট্রাম্পের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালুর সিদ্ধান্তে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

নেতানিয়াহু যুক্তি দেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প ইতিহাস গড়তে পারেন; ইরানি নেতৃত্ব পশ্চিমা বিশ্ব ও বহু ইরানির কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ঘৃণিত।

তিনি আরও বলেন, খামেনির মৃত্যু হলে ইরানের জনগণ রাস্তায় নেমে ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে পারে।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে প্রথম বোমা হামলা শুরু হয়। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, খামেনি নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সরাসরি ফোনালাপ নিয়ে কিছু বলেননি। তবে তিনি জানান, এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা, নৌবাহিনী অকার্যকর করা, প্রক্সি শক্তিগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা এবং ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় বা জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে এনেছে, এমন দাবি ভুয়া খবর’। তিনি বলেন, ‘কেউ কি সত্যিই মনে করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কেউ বলে দিতে পারে কী করতে হবে?’

ট্রাম্পও প্রকাশ্যে বলেছেন, হামলার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ তার নিজস্ব।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেননি। তবে তিনি অত্যন্ত কার্যকরভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এবং ইরানের সেই নেতৃত্বকে হত্যার সুযোগ, যারা ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ—এই বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্চের শুরুতে বলেন, প্রতিশোধ এই অভিযানের একটি উদ্দেশ্য ছিল। তিনি বলেন, ‘ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, আর শেষ হাসিটা হেসেছেন ট্রাম্প।’

জুনের হামলা ও পরবর্তী পরিকল্পনা
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা বলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবতে শুরু করেন।

প্রথম হামলা হয় জুনে, যখন ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায় এবং কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রও এতে যোগ দেয়। ১২ দিনের সেই যৌথ অভিযান শেষে ট্রাম্প দাবি করেন, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে।

তবে কয়েক মাস পর আবার নতুন হামলার পরিকল্পনা শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা।

ইসরায়েল খামেনিকে হত্যার পক্ষেও ছিল, যাকে তারা দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে। হামাস ও হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন প্রক্সি শক্তিকে সমর্থনের জন্যও তাকে দায়ী করা হয়।

ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-আ-লাগো এস্টেটে সফরে গিয়ে নেতানিয়াহু জুনের অভিযানে সন্তুষ্ট নন বলে জানান। ট্রাম্প আরেকটি হামলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেও, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া দুটি ঘটনা
দুটি ঘটনা ট্রাম্পকে আবার হামলার দিকে ঝুঁকতে প্রভাবিত করে। প্রথমত, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের মার্কিন অভিযান, যেখানে কোনো মার্কিন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনা দেখিয়েছে বড় সামরিক অভিযানে ঝুঁকি কম হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ এবং তা দমনে আইআরজিসির কঠোর পদক্ষেপ।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে গোপন বৈঠকে যৌথ পরিকল্পনা জোরদার হয়।

ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন সফরে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরিণতি
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অনেক মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা মনে করছিলেন, ইরানের ওপর হামলা খুবই সম্ভাব্য।

ট্রাম্পকে জানানো হয়, সফল হামলা হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা সম্ভব। তবে পাল্টা হামলার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়।

এই আশঙ্কাই পরে সত্যি হয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, হাজারো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়, তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়।

ট্রাম্পকে আরও জানানো হয়েছিল, খামেনিকে হত্যা করলে তেহরানে নতুন সরকার আসতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে। তবে সিআইএ মনে করেছিল, এতে আরও কট্টরপন্থি নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি।

বর্তমানে যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরানে এখনও রেভল্যুশনারি গার্ডরা রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং জনগণের বড় অংশ ঘরে অবস্থান করছে। খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

পূর্বের খবরশহীদ জিয়া- খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তি খবরআজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস