চলনবিলে মৎস্য শিকারিদের বাউৎ উৎসব

77

পাবনা প্রতিনিধিঃ  চলনবিলে বাউৎ উৎসব, এ যেন সৌখিন মাছ শিকারির মিলন মেলা। চলনবিলে ‘বাউৎ উৎসবে’ মেতেছেন মৎস্য শিকারিরা। এদিকে চলনবিলে মৎস্য শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউত উৎসব দখলের কারণে দিনদিন সংকুচিত মাছ ধরার সুযোগ।

চলনবিলে বাউৎ উৎসবে মেতেছেন সৌখিন শিকারিরাকে মাছ পেলেন, কে পেলেন না তা নিয়ে হতাশা নেই

কে মাছ পেলেন, কে পেলেন না তা নিয়ে হতাশা নেই
 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সৌখিন মৎস্য শিকারিরা এবারও মেতেছেন চলনবিলের বাউৎ উৎসবে। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ভোরে চোখে পড়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলে এমন দৃশ্য।বিভিন্ন স্থান থেকে কাকডাকা ভোরে রুহুল বিলে হাজির হয়েছেন মৎস্য শিকারিরা। কারো হাতে পলো, কারো হাতে খেয়া জাল, বাদাই জালসহ মাছ ধরার নানা উপকরণ। দল বেঁধে বিলে নেমে মনের আনন্দে মাছ শিকার শুরু করেন তারা। কেউ পাচ্ছেন বোয়াল, কেউ বা শোল, রুই, কাতল। অনেকে ফিরছেন খালি হাতে। এভাবেই চলনবিলে মাছ শিকারে মেতেছেন সৌখিন মৎস্য শিকারিরা।

জানা যায়, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলে দল বেঁধে মাছ ধরার এই আয়োজনের নাম ‘বাউৎ উৎসব’। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউৎ উৎসবে অংশ নেন নানা বয়সী হাজারো মানুষ। তবে, এ বছর বিলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ মৎস্য শিকারিরা। তাদের অভিযোগ, অবৈধ জাল আর গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ ধরে নিয়েছে প্রভাবশালীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে মাসব্যাপী চলে এই উৎসব। সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ভোর থেকে বিলাঞ্চলের পূর্বনির্ধারিত এলাকায় দল বেঁধে মাছ শিকারে নামেন বাউৎ প্রেমিরা। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বিল পাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কে মাছ পেলেন, কে পেলেন না তা নিয়ে হতাশা নেই। তাদের কাছে আনন্দটাই বড় কথা।

টাঙ্গাইল থেকে মাছ শিকারে আসা আশিকুর রহমান বলেন, “বাউৎ উৎসবের কথা অনেক শুনেছি। এবার টাঙ্গাইল থেকে প্রায় ২০টি বাস নিয়ে পাঁচ শতাধিক লোক এসেছি মাছ ধরতে। এত লোক একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। খুব ভাল লেগেছে।”

নাটোর থেকে বাউত উৎসবে আসা আরেক মৎস্য শিকারি সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরই আসি এই বাউত উৎসবে। কিন্তু এবার মাছ নেই বললেই চলে। তবে আমরা মাছ পাই বা না পাই, সবাই মিলে আনন্দ করি এটাই ভাল লাগে।”

চাটমোহর উপজেলার মাছ শিকারি ময়েন প্রামাণিক বলেন, “প্রভাবশালীরা আগেই চায়না দুয়ারী, কারেন্ট জাল দিয়ে সব মাছ মাইরে লিছে। পরে তারা বিলে গ্যাস ট্যাবলেট দিছে, যে কারণে ছোটখাটো মাছ যা আছে বেশিরভাগ মরে গেছে। পানিতেও দুর্গন্ধ ম্যালা। এজন্যি মাছ নাই ইবার।”

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি না করে বাউৎ উৎসব পালন করতে হবে। এ বিষয়ে মৎস্য শিকারিদের সচেতন হতে হবে। সেইসঙ্গে বিলে গ্যাস ট্যাবলেট বা অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের ও পরিবেশের ক্ষতি করছে এমন অভিযোগ পেলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোর থেকেই মৎস্য শিকারিরা হাজির হন চলনবিলের বাউৎ উৎসবে
কারো হাতে পলো, কারো হাতে খেয়া জাল, বাদাই জালসহ মাছ ধরার নানা উপকরণ
দল বেঁধে বিলে নেমে মনের আনন্দে মাছ শিকার শুরু করেন তারা
এ বছর বিলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা

https://fb.watch/oDbAb8uF2A/

চলনবিলে বাউৎ উৎসবে শিকারিরা

পূর্বের খবরসারাবিশ্ব বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় : ইইউ
পরবর্তি খবরবিএনপির ‘নেতৃত্বে’ চলমান আন্দোলনের গতিপথ