এবার ভোট পর্যবেক্ষক নিয়ে মুখ খুলল আমেরিকা ও যুক্তরাজ্য দূতাবাসের

51

ঢাকাঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন পর্যবেক্ষক রয়েছেন বলে সংবাদে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছে আমেরিকা। আর এদিকে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন পর্যবেক্ষক রয়েছেন বলে সংবাদে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছে দেশটির সরকার।

নির্বাচনের দিন (০৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার একটি হোটেলে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত পর্যবেক্ষকরাও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তবে, তাদের ওই বক্তব্য নিজস্ব, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয় বলে জানিয়েছে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। সোমবার (০৮ জানুয়ারি) একটি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

দূতাবাস জানায়, ‌যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেনি। নির্বাচন উপলক্ষে কয়েকজন বেসরকারি নাগরিক বাংলাদেশে ছিলেন। তাদের বক্তব্য নিজেদের বা তাদের প্রতিষ্ঠানের, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয়।

এদিকে একই বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে কানাডা। বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কানাডা সরকার কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। পর্যবেক্ষক হিসেবে চিহ্নিত কানাডিয়ান দুই নাগরিক স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছে ঢাকাস্থ কানাডা হাইকমিশন।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) হাইকমিশন তাদের এক্স হ্যান্ডেলে (টুইটার) এক পোস্টের মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে।

 যুক্তরাজ্য দূতাবাসের বিবৃতি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন পর্যবেক্ষক রয়েছেন বলে সংবাদে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছে দেশটির সরকার। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য থেকে আগত ওই পর্যবেক্ষকদের সাথে দেশটির সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকাস্থ যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের ওই মুখপাত্র জানান, যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। অন্যান্য পর্যবেক্ষক মিশনগুলো স্বাধীন। তারা যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে যুক্ত নয়।

এদিকে, একই বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কানাডা সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি বলেও জানায় দেশ দুটির ঢাকাস্থ হাইকমিশন।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, ‌যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেনি। নির্বাচন উপলক্ষে কয়েকজন বেসরকারি নাগরিক বাংলাদেশে ছিলেন। তাদের বক্তব্য নিজেদের বা তাদের প্রতিষ্ঠানের, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয়।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত কানাডার হাইকমিশন তাদের এক্স হ্যান্ডেলে (টুইটার) এক পোস্টের মাধ্যমে জানায়, বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি ২০২৪ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কানাডা সরকার কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রেরণ করেনি। পর্যবেক্ষক হিসেবে চিহ্নিত কানাডিয়ান নাগরিকদ্বয় স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। নির্বাচন বিষয়ে তাদের প্রদত্ত মতামতের সাথে কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় রোববার (৭ জানুয়ারি)। এ নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষক আসে। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার কয়েকজন নাগরিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশে এসেছেন। এই তিন দেশ সরকারিভাবে কাউকে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পাঠায়নি।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য মিশনের মুখপাত্র এবং কানাডা হাইকমিশন এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় এ কথা জানায়।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন নাগরিক ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন দেখতে এসেছিলেন। তারা নিজেদের কিংবা তাদের সংগঠনের হয়ে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
ঢাকায় যুক্তরাজ্য হাইকমিশন জানায়, যুক্তরাজ্যের কয়েকজন নাগরিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশে এসেছেন। যুক্তরাজ্য সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো মিশন বাংলাদেশে পাঠায়নি। অন্য যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে এসেছে, তারা স্বাধীন এবং তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
কানাডা হাইকমিশন এক্স বার্তায় লিখেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে কানাডার যে দুই নাগরিকের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, তাঁরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাই নির্বাচনের বিষয়ে তাঁদের (দুই পর্যবেক্ষক) মতামতের সঙ্গে কানাডা সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ভোট বর্জন মানেই অগ্রহণযোগ্য নয় : বিদেশি পর্যবেক্ষক দল

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিদেশি পর্যবেক্ষক দল। ছবি : সংগৃহীতজাতীয় প্রেস ক্লাবে বিদেশি পর্যবেক্ষক দল।

সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে তা এ দেশের জনগণ, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম নির্ধারণ করবে। কোনো রাজনৈতিক দল ভোট বর্জন করলে বা ভোটারের কম উপস্থিতির কারণে নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য হয় না। তবে প্রধান বিরোধী দল এলে নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর হতো।

বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সোমবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত তিনটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে বিদেশি পর্যবেক্ষক দলগুলো কোনো অনিয়ম দেখেনি জানিয়ে বলেছে, নির্বাচনের আগে ও ভোটগ্রহণ চলাকালে বেশকিছু সহিংসতা সত্ত্বেও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক ও আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন হয়েছে। ভোটে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গসহ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। ভবিষ্যতের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পর্যবেক্ষকরা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের পর্যবেক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান জিম বেটস, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষক টেরি এল ইসলে ও আমেরিকার দ্য হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) চিফ অব স্টাফ আলেকজান্ডার বার্টন গ্রে এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেন।

এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় একই ভেন্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, থাইল্যান্ড, ইরাক, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপ এই ৯টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই দলটি থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্য সৈয়দ আলী জহির মাওলানা ও কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর। এছাড়াও দুপুর ২টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন বেলজিয়ামভিত্তিক সংস্থা দক্ষিণ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সাবেক সংসদ সদস্য পাওলো কাসাকা। তার সঙ্গে ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর উইলেম ভ্যান ডার গেস্তা এবং ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক জ্যাকসন।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো সহিংসতা যেন না হয় আশা প্রকাশ করে উইলেম ভ্যান বলেন, নির্বাচন কোনো খেলা নয়। এখানে বর্জন খুব বেমানান। আর বর্জন মানেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, এই ধারণাও সঠিক নয়।

পাওলো কাসাকা বলেন, নির্বাচনে না এসে বিএনপি নিজেকে খেলার বাইরে নিয়ে গেছে। একই ভুল আগামীতে দলটি করবে না বলে আশাপ্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমরা ভোটগ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলাম। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তাই কম ভোটারদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

মার্ক জ্যাকসন বলেন, জ্বলন্ত ট্রেনের খবর জেনে ভেবেছিলাম ভোটের দিন এরকম কিছু সহিংসতা হবে। শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। নিয়ম মেনে প্রত্যেকটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জন্য প্রত্যাশিত।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কতটা অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য সেই বিচার বাংলাদেশের জনগণ করবে মন্তব্য করে স্নেহাশিস সুর বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এসে কয়েকটি বুথে গিয়ে এত বড় বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবে না। তবে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় বিদেশি পর্যবেক্ষক দলের আসার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সারা পৃথিবী পর্যবেক্ষক ও বিদেশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে একটা বার্তা পেয়েছে।

সৈয়দ আলী জহির মাওলানা জানান, তারা ঢাকার ৩০টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। সেখানে যথেষ্ট ভোটার উপস্থিতি ছিল। কিছু রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ না নিলেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ পাওয়া গেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে উৎসাহিত করেন। তবে সব রাজনৈতিক দলগুলোরই দায়িত্ব নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। আলেকজান্ডার বার্টন গ্রে বলেন, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা দলগুলো ভোটারদের কোনো ভয়ভীতি দেখায়নি। এটা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য শুভ লক্ষণ। তবে আমরা কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা শুনেছি। সরকারি দলের প্রার্থী, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা অপ্রত্যাশিত। কিন্তু সামগ্রিক নির্বাচনের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে সেসব ঘটনা খুবই নগণ্য।

জিম বেটস বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশের ভোট হয়েছে।

পূর্বের খবরজাতীয় পার্টির কফিনে শেষ পেরেক!
পরবর্তি খবরশিশু আয়ানের মৃত্যুতে যথাযথ তদন্ত চেয়ে আদালতে রিট