অনলাইন ডেস্কঃ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব বণ্টন, একে একে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে সরকার
বৃহস্পতিবার রাতে গঠিত হওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দিন আজ। বঙ্গভবনে শপথ নেয়ার পরই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় আহতদের দেখতে যান ড. ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চায় চীন
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে চীন।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এক মুখপাত্র এ কথা জানান।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি নিয়ে চীন অবহিত এবং তারা এই সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। চীন নীতিগতভাবে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং দেশটির মানুষ স্বাধীনভাবে যে উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে, তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল।
চীন ভালো প্রতিবেশী এবং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে অটল রয়েছে উল্লেখ করে এই মুখপাত্র বলেন, চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের এবং এই সম্পর্ক অনেক গভীর। চীন বাংলাদেশের সঙ্গে এই সম্পর্ককে মূল্যবান মনে করে।
দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতার উন্নয়ন এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিতে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে এ সময় উল্লেখ করা হয়।
ড. ইউনূসকে অভিনন্দন জানালেন মমতা ব্যানার্জি
বাংলাদেশের নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজ থেকে এই শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেন তিনি।
নতুন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরো উন্নত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় মমতা ব্যানার্জি জানান, “অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বাংলাদেশে যারা কার্যভার গ্রহণ করেছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা রইলো। আশা করি, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো উন্নত হবে।”
মিজ ব্যানার্জি বলেন, “বাংলাদেশের উন্নতি, শান্তি, প্রগতি ও সর্বস্তরের মানুষের আরো ভালো হোক- এই কামনা করি। ওখানকার ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক, মহিলা থেকে শুরু করে সকলের প্রতি আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো।”
খুব শিগগিরই সংকট কেটে শান্তি ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “শান্তি ফিরে আসুক তোমার-আমার এই ভালোবাসার ভুবনে। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকবো।”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শুভেচ্ছা বার্তা
বাংলাদেশ নিয়ে ভারত ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
সহিংস বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের ঘটনাবলী নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে বৃহস্পতিবার আলোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
এক্স হ্যান্ডেল (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে এই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন মি. জয়শঙ্কর। তিনি লিখেছেন, ‘আজ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডেভিড ল্যামির কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। বাংলাদেশ ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তবে ভারত কিংবা যুক্তরাজ্য কেউই শেখ হাসিনার পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
আপাতত দিল্লিতে একটি সুরক্ষিত ঠিকানাতে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছেন এমন গুঞ্জনের মুখে তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এই তথ্যকে অসত্য বলে দাবি করেছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবার রাতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভকামনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট (সাবেক টুইটার) থেকে বৃহস্পতিবার মোদী এ বিষয়ে টুইট করেন।
ওই টুইট বার্তায় মোদী বলেন “আমরা হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক অবস্থায় দ্রুত ফিরে আসার আশা করি। শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য আমাদের উভয় জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এদিকে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার স্থানীয় সময় বুধবার তার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আশা প্রকাশ করেন।
মি. মিলার বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত হবে গণতন্ত্রের মূলনীতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সব সিদ্ধান্ত নেয়া।”
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলেও তিনি জানান।
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের শপথ গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকাল চলছে। এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে জরুরি কাজ হবে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
দেশের জনগণ ও তরুণ সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এই শপথ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ইইউ বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের জটিল এ কাজে তাদের সহায়তা করতে আগ্রহী।
নতুন এই প্রশাসন সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







