উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ,সামনে আসছে নানা কর্মসূচি

99

অনলাইন ডেস্কঃ আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সমাবেশ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দাবি আদায়ে এবং তৃণমূল স্তরের সমর্থন জোগাতে দেশব্যাপী সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে পারে রাজনৈতিক দলগুলো। এ অবস্থায় পুলিশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্বব্যাপী সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সংকট প্রতিক্রিয়া, পরামর্শ এবং প্রতিরক্ষামূলক সমাধান দেওয়া বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ক্রাইসিস২৪ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রাজনৈতিক দলগুলো বেশকিছু কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্রতিবাদ মিছিল রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে দলটির সমর্থকরা।

একই দিন অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় দুটি মিছিল করবে বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা-কর্মীরা বেটার লাইফ হাসপাতাল থেকে ভিআইপি রোড হয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমলাপুর এলাকা থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত পদযাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে।

ওইদিন কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ শিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হয়ে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে যোগ দেবেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (ইউটিএবি) সদস্যরা।

পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর জামায়াত বাংলাদেশের বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থান থেকে প্রধান প্রধান শহুরে কেন্দ্রগুলোতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করবে।

এছাড়া একই মাসে বিএনপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আরেকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করবে বিএনপি নেতারা। এর অংশ হিসেবে দলটির কর্মীরা বাংলাদেশ সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভবনসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের সামনে অবস্থান ও অবরোধ করে তাদের প্রচারণা জোরদার করতে পারে।

আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক দলের আরও জমায়েত নিশ্চিত- ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬টি দল বিভিন্ন প্রতিবাদে অংশ নেবে। দলগুলোর সম্ভাব্য জমায়েতের স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাজনৈতিক দলের অফিস, পুলিশ স্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, জাদুঘর, পাবলিক প্লেস, ক্রীড়া মাঠ, মসজিদ, প্রেস ক্লাব এবং রাস্তাঘাট। যদিও এসব কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন হতে পারে। সাংগঠনিক সমস্যা অথবা আইন প্রয়োগকারী বিধিনিষেধের কারণে আয়োজকরা সংক্ষিপ্ত নোটিশে কোনো পরিকল্পিত কার্যক্রম বাতিল বা দেরিতে করতে পারেন।

ক্রাইসিস২৪ বলছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ প্রায় নিশ্চিতভাবেই এই ধরনের যে কোনো সমাবেশ পর্যবেক্ষণ করবে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পদক্ষেপ নিতে পারে। পুলিশ ও নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কর্মকর্তারা ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসাবে গণগ্রেপ্তার অথবা লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসসহ বলপ্রয়োগ করতে পারেন। বিক্ষোভকারীরা মিছিল অথবা সড়ক অবরোধ করতে পারে। যার ফলে স্থানীয় পরিবহন সেবা ব্যাহত হতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে ক্রাইসিস২৪। এর মধ্যে রয়েছে- সহিংসতার সম্ভাবনার কারণে সমস্ত বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন। যে কোনো নিরাপত্তা বিঘ্নের প্রথম লক্ষণ দেখে অঞ্চলটি ত্যাগ করুন। রাজনৈতিক জমায়েতের স্থানগুলোর কাছাকাছি অতিরিক্ত যাতায়াত কমিয়ে দিন। সম্ভাব্য স্থানীয় ব্যাঘাতের জন্য সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন। সমস্ত সরকারি পরিবহন এবং নিরাপত্তা পরামর্শ মেনে চলুন।

পূর্বের খবরদিল্লিতে জি২০ সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
পরবর্তি খবর‘বাংলাদেশ আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্বে ১০তম অবস্থানে’