যুক্তরাষ্ট্র দেখছে ইসরায়েলের পরাজয়!

85

অনলাইন ডেস্কঃ ফিলিস্তিনি সংগঠন ‘হামাস’ গত ৭ অক্টোবর অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে ইসরায়েলের ভেতরে অতর্কিত হামলা চালায়। এ দলটি বর্তমানে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে বেছে বেছে হত্যার পাশাপাশি দুই শতাধিক ইহুদিকে জিম্মি করে গাজায় আটকে রাখে হামাস। জবাবে ওই দিন থেকেই উত্তর গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ২৬ অক্টোবর সেখানে শুরু হয় স্থল অভিযান বা হামাস গেরিলাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ।

৩ নভেম্বর পর্যন্ত হামাসের সাথে তীব্র লড়াইয়ে নিহত হয়েছে ৪০১ জন ইসরায়েলি সেনা। যদিও হামাসের দাবি, দখলদারদের হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। যুদ্ধবিরতি চলাকালে হামাসের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনি বীর যোদ্ধাদের হামলায় কমপক্ষে ৫০০ ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছে।

রোববারও একসাথে থাকা ৬০ জন ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলা চালায় হামাস। একইদিনে আরও তিন সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে ইসরায়েল। টাইমস অব ইসরায়েলের দাবি, স্থল অভিযান শুরুর পর এ নিয়ে গাজায় ৭৫ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। যদিও এর বিপরীতে গোটা ফিলিস্তিনে একই সময়ে নিহত হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। যাদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও নিরস্ত্র জনসাধারণ।

এ অবস্থায় চলমান অভিযানে ইসরায়েলের ‘কৌশলগত পরাজয়’ হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান অভিযানে যদি শিশু-নারী ও বেসামরিক লোকজনের হতাহত হওয়া নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, সেক্ষেত্রে এই যুদ্ধে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে পরাজিত হবে। কারণ গাজা উপত্যকায় বর্তমানে যে যুদ্ধ চলছে, তাতে গুরুত্বের একদম কেন্দ্রে অবস্থান করছে উপত্যকার সাধারণ বেসামরিক লোকজন। ইসরায়েলের অভিযানের কারণে হামাসের ওপর যদি তাদের নতুন করে আস্থা বাড়তে শুরু করে সেক্ষেত্রে পরাজিত হবে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন নেতাদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, গাজার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় অবশ্যই সর্বোচ্চ যত্নবান হতে হবে এবং উপত্যকায় ত্রাণবাহী ট্রাকের প্রবেশে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না।

আল আকসা অঞ্চলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের পক্ষে জোর দিয়ে লয়েড অস্টিন বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যের আল-আকসা অঞ্চলে গত দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত-সহিংসতার অবসান ঘটাতে পারে। দ্বিরাষ্ট্র সমাধান কেবল ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কোনো সমাধান প্রস্তাব নয়, বরং ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথও এটি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে যে ভয়াবহ যুদ্ধ সেখানে চলছে, এক দিন তা শেষ হবে; কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের লোকজনের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষোভ, হতাশা আরও বৃদ্ধি পাক, তা কেউই চায় না।

পূর্বের খবরআওয়ামী লীগের ৯৭ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত
পরবর্তি খবরএবার ১০ম দফা বিএনপির ৬ ও ৭ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা