আঞ্চলিক প্রভাবের মূল্য : প্রতিবেশীদের আস্থা হারাচ্ছে ভারত

208

 

ঢাকাঃ বিশ্বের উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশগুলোতে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রণালয় (Technocrat Ministry) বা প্রযুক্তি ও পেশাগত জ্ঞানে চালিত মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর কারণ হলো, এই ধরনের মন্ত্রণালয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাজেট ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রণালয়ের প্রভাব এই মন্ত্রণালয়গুলো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ওপর সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাব ফেলে, যেমন রোড ও হাইওয়ে মন্ত্রণালয়: বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে টেকনোক্র্যাট পরামর্শ অপরিহার্য।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সামঞ্জস্য রাখে।

এনার্জি মন্ত্রণালয়: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্পের দক্ষ বাস্তবায়ন।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়: বড় হাসপাতাল, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা।

ফ্যাব্রিক্স, শিল্প ও বাণিজ্য, অর্থনীতি, ICT: বাজেট বরাদ্দ, উৎপাদনশীলতা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রভাব। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখা জরুরি
বড় প্রকল্পের বাজেট ব্যবহার এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবকে কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এটি দেশের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রকল্প সময়মতো এবং বাজেট অনুযায়ী সম্পন্ন হয় আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতি কমে ভবিষ্যতের জন্য নির্ভরযোগ্য অর্থসংস্থান বা রিজার্ভ তৈরি হয় বিদেশি ঋণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায়ই বাইরের সংস্থা যেমন—বিশ্বব্যাংক (World Bank), এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB), JICA থেকে ঋণ নেওয়া হয়। ঋণ প্রক্রিয়া সাধারণত:

প্রকল্প অনুমোদন ও চাহিদা যাচাই ঋণ চুক্তি ও শর্তাবলী স্থিরকরণ পর্যায়ক্রমে অর্থ উত্তোলন ও বাস্তবায়ন।

পরিশোধ: নির্দিষ্ট সুদের হার এবং সময়সীমা অনুযায়ী।

উদাহরণস্বরূপ, একটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হলে তার মেয়াদ হতে পারে ১০–২০ বছর, সুদ ও মূল অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে—ঋণ বেড়ে যায়, প্রকল্প বিলম্বিত হয় এবং বাজেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সারকথা: একটি দেশের উন্নয়ন, বাজেট সাশ্রয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য টেকনোক্র্যাট মন্ত্রণালয় অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রেখে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

 

সাবেরা শরমিন হক – (পরিবেশবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সমাজ ও সংস্কৃতি কর্মী, ব্যবসায়ী।) পরিবেশ বিজ্ঞান, নগর পরিকল্পনা, উন্নয়ন অধ্যয়ন, এমবিএ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্নাতকোত্তর,পিএইচডি ফেলোশিপ বিশ্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

পূর্বের খবরতারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব নিলেন
পরবর্তি খবরআমাকে মাননীয় সম্বোধন করবেন না, সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে তারেক রহমান