আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

89

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণের দিন। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির বিজয় যখন আসন্ন,তখনই ঘটে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সেই হত্যাকাণ্ড।আলোকবর্তিকা হয়ে শোষিত আর বঞ্চিত বাঙালিকে মুক্তির পথে নিয়ে গিয়েছিলেন যারা, অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের প্রাণ, জাতির সেই সূর্যসন্তানদের স্মরণে বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

<div class="paragraphs"><p>ফাইল ছবি</p></div>

রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ।

ঢাকাঃ আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এই দিনে হত্যা করা হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে দিনটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাত থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময়জুড়েই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। তবে বিজয়ের প্রাক্কালে এ হত্যাযজ্ঞ ভয়াবহ রূপ নেয়। আর এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছিল দেশীয় দোসররা।

ডিসেম্বরের মধ্যভাগে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয় যখন অনিবার্য; তখন এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করে বাংলাদেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীদের; এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দেওয়া।

দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির বিজয় যখন আসন্ন, তখনই ঘটে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সেই হত্যাকাণ্ড।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে।

নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়; তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে- তা নিশ্চিত করা।

শরীরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্নসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায়। পরে তা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

প্রায় অর্ধ শতক পর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির অংশ হিসেবে সরকার ২০২০ সালে প্রাথমিকভাবে এক হাজার ২২২ জনের একটি তালিকা করে।

<div class="paragraphs"><p>মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। </p></div>

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে।

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ৫২তম বার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিল্প-সাহিত্যের চর্চা ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি এবং যুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে বুদ্ধিজীবিদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদের নির্মম হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও পথকে অনুসরণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে পারলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে বলে আমি মনে করি।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও তাদের দোসররা পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে।

এর ধারাবাহিকতায় পঁচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং পরবর্তীতে দেশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের এই পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যা করে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে বিকৃত করে।

<div class="paragraphs"><p>রায়েরবাজারে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ। </p></div><div class="paragraphs"><p><br></p></div>

রায়েরবাজারে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ।

“সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিয়ে দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মুক্তমনা, শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ, সংখ্যালঘুদের হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন চালায়। এই সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে দেশব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, মানুষ পুড়িয়ে মারে এবং পরিকল্পিত নাশকতা চালায়। এখনও তারা একইভাবে নাশকতা, আগুনসন্ত্রাস, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।”

শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসের কর্মসূচি

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

সকাল ৭টার পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে হবে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে এ দিনের কর্মসূচি শুরু করবে।

এরপর সকাল ৭টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ৮টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে দলটি।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আলোচনা সভায় দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপিও। যদিও দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই কারাগারে। ভোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ জেলা কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হবে। সকালে সাড়ে ৮টায় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ এবং সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা হবে।

পূর্বের খবরগাজীপুরের বনখড়িয়ায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেক্স ট্রেনের ৭টি বগি লাইনচ্যুত
পরবর্তি খবরকুমিল্লা সিটি মেয়র আরফানুল হক রিফাত আর নেই