আজ কবি জাকারিয়া খান চৌধুরী ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী

301

ঢাকাঃ বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা (মন্ত্রী), কারাবরণকারী ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক, উত্তরা মিডিয়া ক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি জাকারিয়া খান চৌধুরীর আজ ২৫ মার্চ ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী। মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তাঁকে গভীর শ্রদ্বার সাথে স্মরণ করছেন দেশবাসী

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৯ মার্চ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে রাজধানীর খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে স্থানান্তর করে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর ২৫ মার্চ  সকাল ১১ টা ১০ মিনিটে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাংবাদিক ও কবি জাকারিয়া  চৌধুরী চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে  তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর দৈনিক মানবকণ্ঠ কার্যালয়ে বাদ আসর প্রথম জানাজা, রাত ১০টায় শহরের কোর্ট মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা এবং সর্বশেষ পরদিন সকাল ১০টায় মরহুমের গ্রামের বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার শতমুখায় জানাজা শেষে তার দাদার কবরের পাশে জাকারিয়া চৌধুরীকে দাফন করা হবে। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী জাকারিয়া চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সৎমুখা চৌধুরী বাড়ি।

 

May be an image of ২ people, newsroom and text that says "果"

একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন কবি জাকারিয়া খান 

 

জাকারিয়া চৌধুরী ১৯৩৩ সালের ১৮ নভেম্বর ভারতের আসাম প্রদেশের শিবসাগরে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবনেই তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১৯৫৫ সালে অর্থনীতিতে সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৭ সালে লন্ডনে লিঙ্কনস্ ইন -এ ‘বার-এট-ল’ পড়ার জন্য ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় লন্ডনে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা স্বাধীন করার পরিকল্পনায় ‘পূর্বসূরি’ নামে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৮ সালে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার’ প্রতিবাদে লন্ডনস্থ পাকিস্তান হাই কমিশন দখলের নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধ শুরু হলে লন্ডনে বাংলাদেশের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও জনমত গঠন শুরু করেন। ১৯৭২ সালে জাকারিয়া চৌধুরী দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়, জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে লেখালেখিতে মনোযোগ ও মানবকণ্ঠ পত্রিকা প্রকাশ করেন জাকারিয়া চৌধুরী।

জাকারিয়া চৌধুরীর স্ত্রী প্রখ্যাত ভাস্কর শামীম শিকদার। ছেলে শান্তি চৌধুরী লন্ডনে ব্যারিস্টারি অধ্যয়নরত এবং মেয়ে জাকিয়া শামীম চৌধুরীও মায়ের মতো একজন ভাস্কর। জাকারিয়া খান চৌধুরীর ভাই জাকির খান চৌধুরী ছিলেন এরশাদ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

পূর্বের খবরদেশের ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ
পরবর্তি খবরবাংলাদেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র