আওয়ামী লীগের নতুন কৌশল “স্বতন্ত্র প্রার্থী” ঃ ‘আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ’

56

বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনাদের বর্জনের মুখে নির্বাচনের আগে থেকেই আলোচনায় ‘আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ ভোট যুদ্ধ।

সারাদেশে এমন আসনের সংখ্যা শতাধিক, যেখানে এরই মধ্যে নৌকার প্রার্থী নিজ দলের ভেতরেই স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কেউ বর্তমান সংসদের সদস্য, কেউ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়রের পদ ছেড়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। ফলে নির্বাচন করার অতীত অভিজ্ঞতা তাদের আছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাইবাচাইয়ে বাদ পড়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ আপিলেও প্রার্থিতা ফিরে পাচ্ছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত কত আসনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে লড়াই হয়, তা জানার জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

এদিকে, জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ভোট সারা দেশে সমানভাবে নেই। বৃহত্তর রংপুর ও সিলেট বিভাগে এক সময় তাদের আধিপত্য থাকলেও তা কমেছে। নতুন দল তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম বা বিএসপির শক্তিও পরীক্ষিত নয়, ধর্মভিত্তিক দলগুলো কোনো আসনে কখনও একক শক্তিতে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দেওয়ার মত অবস্থানে যেতে পারেনি। এর মধ্যেও এবার নির্বাচন নিয়ে আসনে আসনে ভোটারদের মধ্যে নানা হিসাব নিকাশের কারণ হল, শুরু থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাদের তৎপরতা।

এবার আওয়ামী লীগের শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মাঠে থাকতে উৎসাহ দেওয়া স্পষ্টতই ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি এবং কেন্দ্রে ভোটার বাড়াতে ক্ষমতাসীন দলের কৌশল। এমনটাই মনে করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক।  আওয়ামী লীগ নেতারা ঢালাওভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সহিংসতার আশঙ্কাও করছেন নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশাসনের জন্য নাগরিক  সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র বা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হার মেনে নিতে চাইবে না। সেক্ষেত্রে সংঘাতের একটা শঙ্কা তো থেকেই যায়।

পূর্বের খবরদেশে এবারও অংশগ্রহণমূলক ভোট হচ্ছে না : টিআইবি
পরবর্তি খবরবাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশনের সাধারণ সভা আজ