অবরোধে সারা দেশে মিছিল পিকেটিং, রাজধানীতে ৫ বাসে আগুন

110

 

অবরোধের কারণে রাজধানীসহ সারা দেশের যানবাহন চলাচল ছিল খুবই কম। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। রাজধানীতে যান চলাচল ছিল কম। কিছুসংখ্যক মিনিবাস চলাচল করলেও যাত্রী ছিল কম। এছাড়া লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া অবরোধের কারণে রাজধানীর বাসটার্মিনালগুলো থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। টার্মিনালে বাস কাউন্টারের শ্রমিকরা জানান, যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাস ছাড়া হচ্ছে না।

সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তফসিল বাতিল, দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে দশম দফায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর অবরোধ শেষ হবে শুক্রবার ভোর ৬টায়।

রাজধানীতে বাসে আগুন : অবরোধের মধ্যে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে পাঁচটি বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মানিকনগর চৌরাস্তায় একুশে এক্সপ্রেসের তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। পরে পরিস্থিতি বুঝে আরো দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তিনটি ইউনিটের সম্মিলিত চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে তিনটি বাসেরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিস থেকে জানানো হয়, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খবর আসে কে বা কারা মানিকনগর চৌরাস্তা এলাকায় একুশে এক্সপ্রেস পরিবহনের বাসে আগুন দিয়েছে। পরে ৫টা ২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথম ইউনিট। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায় একটি নয় একই পরিবহনের তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আগুনে দু’টি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে যায় ও একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খিলগাঁওয়ে বাসে আগুন: খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খিলগাঁওয়ের তালতলায় অগ্রণী ব্যাংকের একটি স্টাফ বাসে আগুন দেয়ার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। বাসে আগুন দেয়ার খবর পেয়ে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা পুলিশি নিরাপত্তায় বাসের আগুন নিভিয়ে ফেলে।

অপর দিকে রাত পৌনে ৮টার দিকে বাড্ডায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলা
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি বাসে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। বাসটি ক্যাম্পাস থেকে নগরীতে যাচ্ছিল। এতে কেউ হতাহত না হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বুধবার নগরীর শেরে বাংলা রোডের জোহরা খাতুন স্কুল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। বাসটি শেরে বাংলা রোড হয়ে ময়লাপোতার দিকে আসছিল। বেলা পৌনে ২টার দিকে এই সড়কে অবরোধের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। বাসটি জোহরা খাতুন স্কুলের অদূরে আসলে ওই মিছিল থেকে বাসটি উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে বাসের দু-তিনটি গ্লাস ভেঙে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় বাস হামলার শিকার হলো। আমরা এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন। আমরা বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছি। তিনি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সাথে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আটকের আশ্বাস দিয়েছেন।

বগুড়ায় ট্রাকে আগুন, বিএনপি ও জামায়াতের মিছিল
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় মহাসড়কে ট্রাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়াসহ মিছিল সমাবেশ করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থেকে খড়বোঝাই করে একটি ট্রাক পাবনায় যাচ্ছিল। পথে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে নয়মাইল এলাকায় ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত পথ রোধ করে ট্রাকটি ভাঙচুর করে। পরে খড়ে আগুন দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ট্রাকচালক ও সহকারীর কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিএনপি : অবরোধের সমর্থনে বগুড়া জেলা বিএনপি শহরের দ্বিতীয় বাইপাস সড়কের ফণিরমোড় ও দহপাড়া এলাকায় দু’টি মিছিল করেছে। এসব মিছিলে অংশ নেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা, সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন, ফজলুল বারী বেলাল, জয়নাল আবেদীন চান, সহিদ উন নবী সালাম, খায়রুল বাশার, মনিরুজ্জামান মনি প্রমুখ।3

জামায়াত : বুধবার জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার উদ্যোগে শ্রমিক নেতা আজগর আলীর নেতৃত্বে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের চারমাথা ট্যাংকের সাঁকো এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিল শেষে মহাসড়কে বসে পড়েন নেতাকর্মীরা। একই সময়ে দ্বিতীয় বাইপাস সড়কের কুরশা এলাকায় আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।জামায়াত-শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

রাজশাহীতে জামায়াতের মিছিল-পিকেটিংরাজশাহী ব্যুরো জানায়, দশম দফায় দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বুধবার সকালে নগরীর বিমানবন্দর সড়কে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরী শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় জামায়াতের মহানগর শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি চলাকালে সংক্ষিপ্ত পথসভায় নেতারা বলেন, জনগণ এই অবৈধ হাসিনা সরকারের পাতানো নির্বাচন হতে দেবে না। তাই তফসিল বাতিল করে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান তারা। বক্তারা আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমানসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

ককটেল বিস্ফোরণ : এ দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় পর পর দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে ককটেল দু’টি বিস্ফোরিত হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাইকযোগে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাসিকের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় পর পর দু’টি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তাদের ধারণা, আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পর পর দু’টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে দুর্বৃত্তরা।

পূর্বের খবরবাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ আতঙ্ক
পরবর্তি খবরশক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ শক্তি হারাচ্ছে, জেঁকে বসবে শীত